সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষে টাকা বিতরণকালে সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে গ্রামবাসী। ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল বাতেনের ছোটভাই। আটক পুলিশ সদস্য ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত। আটকের পর তিনি নিজেকে ডিআইজি আব্দুল বাতেনের ভাগনে বলে দাবি করেন।
মঙ্গলবারমধ্যরাতে উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুর রহমানের এজেন্ট আরিফুল ইসলাম ঝিনুক বলেন, ‘নির্বাচনের আগের রাতে টাকা দিয়ে ভোট কেনা ও ভয়ভীতি দেখানোর সময় গ্রামবাসীরা উনাকে হাতেনাতে আটক করে। বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। তিনি নিজেকে ডিআইজি আব্দুল বাতেনের ভাগনে ও ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের এসআই পদে কর্মরত বলে আমাদের জানিয়েছেন। এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।’
বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, ‘আমরা বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি লাল গেঞ্জি পরা লোকটা মানুষকে ডেকে নিয়ে কথা বলতেছে। পরে টাকা দিচ্ছে। আমি মেম্বারকে বিষয়টি দেখালে তারা মেম্বারের সঙ্গে তর্ক করে এবং মেম্বারের ছবি তুলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে আমরা তাকে আটক করলে পুলিশকে খবর দিব জানালে সে জানায় সে নিজেই পুলিশ!’
স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর মিয়া বলেন, ‘তারা ৬–৭ দিন ধরে এলাকায় ঘুরাঘুরি করতেছে। কিন্তু আজকে বেশি করে ফেলেছে। তারা আড়ালে গিয়া মানুষকে রাতের অন্ধকারে টাকা দিচ্ছে, আমি গিয়ে প্রতিবাদ করায় তারা আমার ছবি তোলে এবং আমাকে নির্বাচনের পর দেখে নিবে বলে হুমকি দেয়। ওই সময় আমার সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি লেগে গেলে গ্রামবাসীরা তাদের আটক করে।’
মধ্যনগর থানার ওসি মো. এমরান হোসেন বলেন, এখনো আমাকে এ বিষয়ে কিছু কেউ জানায়নি।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা অতীশ দর্শী চাকমা ও সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদকে ফোন কল করলে তাঁরা সাড়া দেননি। পরবর্তীতি বিষয়টি জানতে পুলিশ সুপারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আটকের ছবিসহ দিয়ে বিষয়টি জানতে চেয়ে মেসেজ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








