সিলেটে কোটা আন্দোলনের মামলায় হোটেল কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শ্রমিকও আসামি
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০১:৪১ PM

সিলেটে কোটা আন্দোলনের মামলায় হোটেল কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শ্রমিকও আসামি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/০৮/২০২৪ ০৪:৪১:৫৭ AM

সিলেটে কোটা আন্দোলনের মামলায় হোটেল কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শ্রমিকও আসামি


নগরীর বন্দরবাজারের রাজা জিসি মার্কেটের জুতা ব্যবসায়ী আরিফ আহমদকে গত ১৯ জুলাই দোকান থেকে আটক করে পুলিশ। ওই দিন আরও আটক করা হয় জকিগঞ্জের খলাদাপনিয়ার কামরুল ইসলাম, নগরীর বলিয়াতি বাজিতপুরের ছুরত মিয়া, ঢাকা দক্ষিণের সায়েম খান নেহালসহ ১৯ জনকে। তাদেরকে কোতোয়ালি থানার ৫৪ ধারায় মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

ওই দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট, পোস্ট অফিস প্রাঙ্গণ ও পেপার পয়েন্টে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে আদালতে ফরওয়ার্ডিং দেয় থানা পুলিশ। এতে গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করা হয়।

পরের দিন ২০ জুলাই বন্দরবাজারের বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা করে। এসব মামলায় ৫৪ ধারায় আগেই গ্রেপ্তার ১৯ জনসহ নতুন করে আরও ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ আসামি করা হয় ৩০০-৩৫০ জনকে।

কোতোয়ালি থানায় ২০ জুলাইয়ের তিনটি মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩৩/৩৩৭ নম্বর মামলায় আসামি করা হয়েছে মহানগর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান, জেলা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার, মহানগর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসর খান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ, বিএনপি নেতা রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার নাফিস, মহানগর শিবিরের সেক্রেটারি শাহিন আহমদ, মদন মোহন কলেজের সভাপতি মিজানুর রহমান সৈকতসহ ১৯ জনকে। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ করা হয়। আবার ৩৪/৩৩৮ নম্বর মামলাতেও তাদেরই আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় বিস্ফোরকসহ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া ৩২/৩৩৬ নম্বর মামলায় হত্যার ধারাসহ বিস্ফোরক ও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে। এতেও আসামি একই ব্যক্তিরা।

হত্যা মামলাসহ অন্য দুটি মামলার আসামি আরিফ আহমদসহ ৫৪ ধারায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতপাড়ায় কথা হয় আরিফের পরিবারের সঙ্গে।

তারা জানায়, ঘটনার সময় আরিফসহ বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী ও ব্যবসায়ী স্থানীয় স্কুলের গেটে আশ্রয় নিলে পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যায়। নাশকতার মামলার পাশাপাশি হত্যা মামলায় আসামি করায় ভাইকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আরিফের ভাই আলী আহমদ।

৫৪ ধারায় আটক তিনটি মামলায় একই ব্যক্তিদের আসামি প্রসঙ্গে আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী জানান, একই স্থানে পৃথক ঘটনা দেখিয়ে তিনটি মামলা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার মধ্যে আসামি করা হয়েছে একই ব্যক্তিদের। সাংবাদিক তুরাবকে পুলিশ গুলি করে মেরেছে, অথচ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে দলীয় কর্মীসহ সাধারণ আসামিদের। দমনপীড়ন বাড়াতে হাস্যকর মামলা করা হয়েছে।

আসামি রেস্টুরেন্ট কর্মচারী ও মাছকাটা লোকও
জালালাবাদ থানায় দায়ের করা মামলায় (১৪/১০৪) শাবি গেটের হিমুর ভোজন বিলাস রেস্টুরেন্টের কর্মচারী নাহিয়ান, আকাশ আহমদ, তারেক আহমদ, ফোরকান আহমদসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই মামলায় এইডেড স্কুলের ছাত্র তাহসিনও আসামি। কোতোয়ালি থানার ৩২/৩৩৩ নম্বর মামলায় লালবাজারে মাছকাটা শ্রমিক আলিম উদ্দিনকেও আসামি করা হয়েছে।

তিন থানায় ১১ মামলায় ১৭ হাজার আসামি
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে নাশকতার অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬টি থানার মধ্যে তিনটি থানায় মামলা হয় ১১টি। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানায় ৬টি, জালালাবাদ থানায় ৪টি ও দক্ষিণ সুরমা থানায় ১টি। এসব মামলার প্রতিটিতে ২০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার পর্যন্ত আসামি করা হয়েছে। প্রতিটিতে ৩০০ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামাসহ আসামি করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮১৫ জনকে। এসব মামলায় গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪৫ জনকে। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা রয়েছেন। প্রতিটি মামলায় দলীয় নেতাকর্মী ও শ্রমজীবী মানুষই মূলত আসামি।

প্রতিদিন আদালতপাড়ায় স্বজনরা
প্রায় প্রতিদিনই গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হাজির করা হচ্ছে। কারও রিমান্ড শুনানি কারও বা জামিনের জন্য। এ সময় আদালতপাড়ায় ভিড় করছেন স্বজনরা। মঙ্গলবার এক দিনেই ৪০ জন কর্মীর রিমান্ড শুনানিতে অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করেন বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ। জকিগঞ্জ থেকে আদালতে আসা রমিজ উদ্দিন জানান, তার ছেলে সিলেটে দোকানে চাকরি করে। নাশকতার মামলায় এখন সে আসামি। জামিন চেয়ে পাননি।

নানা অসংগতি ও একাধিক মামলার আসামি প্রসঙ্গে মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, কিছু অসংগতি থাকলেও তদন্তকালে তা সংশোধন করে চার্জশিট দেওয়া হবে। একটি স্থানে একাধিক ঘটনায় একই লোক জড়িত থাকতে পারে। একই স্থানে ভিন্ন সময়ে অনেকে নাশকতায় জড়িত থাকায় আসামি করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, কেউ জড়িত না থাকলে বাদ যাবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর