এপ্রিল মাসে ২৯৪ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ৬৮ জন ধর্ষণ এবং ৩০ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় শুধু শিশুই প্রাণ হারিয়েছে ৫৭টি। এ ছাড়া মব সন্ত্রাসে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি জানায়, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ৪৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।
নারী ও শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে ২৯৪ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ৬৮ জন নারী, শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩০ জন নারী ও কন্যা শিশু। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৭৯ জন নারী ও কন্যা শিশু। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৮ জন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৬৪ জন, আহত হয়েছেন ৩৬ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৩৬ জন নারী। এ ছাড়া, এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার ১৯১ জন শিশুর মধ্যে ৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ১৩৪ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ৯৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ০৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৩৩ জন। মার্চ মাসে ১১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৯১২ জন।
৯৮টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৪০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৪৭ জন ও নিহত ০৪ জন। ১২টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১১৩ জন, ১৩টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৮ জন। ০৩টি বিএনপি-এনসিপি মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২৬ জন, ২১টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৪৬ জন।
আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ ও হামলা, দলীয় ও অন্তর্কোন্দল, ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর পৃথক হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং দেশব্যাপী ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১৩টি ঘটনায় কমপক্ষে ৩২ জন আহত এবং ৬ জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বিএনপির ০৩ জন, আওয়ামী লীগের ০২ জন, জামায়াতের ০১ জন। ৩৭ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এ ছাড়াও সারাদেশে আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক ২৬টি ঘটনায় অন্তত ৬৭টি বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এপ্রিল মাসে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে ৪০টি হামলার ঘটনায় ৭৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মাজারে হামলার ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ৮টি হামলার ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ৩টি মন্দির, ২টি প্রতিমা ও ১টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কুষ্টিয়ায় একটি মাজারে হামলার ঘটনায় পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নিহত ও ১০ জন অনুসারী আহত হয়েছে।
সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ০৮টি হামলার ঘটনায় ২ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে, এদের মধ্যে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাছাড়া বিএসএফ কর্তৃক ০৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট সীমান্তে ভারতীয় নাগরিক খাসিয়ার গুলিতে ২ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে ৮০টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১১৬ জন। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৬৪ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। এ ছাড়া রাজধানীর বনানীতে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক দুই ঘটনায় দুই গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








