বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্য সমস্যা ও পরিত্রাণের উপায় কি?
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:৩৬ PM

বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্য সমস্যা ও পরিত্রাণের উপায় কি?

.

প্রকাশিত: ০৬/০৮/২০২৪ ১০:০৩:১৮ AM

বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্য সমস্যা ও পরিত্রাণের উপায় কি?


মোহাম্মদ মেসবাহউর রহমান : স্বৈরাচারী শাসন বলতে এমন এক ধরনের শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তি বা ছোট্ট একদল ব্যক্তি দেশের সকল ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করে। এই ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের কোনো ভোটাধিকার থাকে না, এবং সরকারের বিরোধিতা করা অবৈধ বলে গণ্য হয়। স্বৈরাচারী শাসনের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য হল- একজন ব্যক্তির একচ্ছত্র ক্ষমতায় থাকা, জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা, আইনের শাসন না থাকা, বিরোধী মত পোষণকারীদের দমন করা, সরকার নিজের স্বার্থে মিথ্যাচার ও প্রচারণা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা, শাসকগোষ্ঠী ও তাদের ঘনিষ্ঠদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া, দুর্নীতি ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললে একটি দেশের সকল খাতেই গভীর প্রভাব পড়ে। জনস্বাস্থ্য খাতও এর বাইরে থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়া, অর্থনৈতিক সঙ্কট, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অবক্ষয় এবং সামাজিক অস্থিরতা স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পরেও দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে। 


স্বৈরাচারী শাসন পতনকালীন সময়ে সৃষ্ট জনস্বাস্থ্য সমস্যা:

সাধারণত কোন স্বৈরাচারী সরকারই সহজেই ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। প্রতিবাদকারী সাধারণ মানুষের উপর অমানুষিক দমন নিপীড়ন করে যে কোনভাবে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় এবং এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। সমাজে দাঙ্গা, হতাহত এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। ফলে হাসপাতাল গুলোতে হতাহত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকট তৈরী হয়। নির্বিচারে মানুষ হত্যা, হতাহতের ঘটনায় জনগণের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

স্বৈরাচারী শাসন পতনকালীন সময়ে সৃষ্ট জনস্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলার উপায়:

স্বৈরাচারী সরকার কর্তৃক নির্বিচারে হত্যা এবং হতাহতের শিকার হওয়া বা এগুলো সাক্ষী থাকা মানুষদের মধ্যে গভীর ট্রমা সৃষ্টি করে। এই ট্রমা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে, পারিবারিক সম্পর্ককে এবং সমাজে অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করে। হাসপাতাল গুলোতে হতাহত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এই ঘটনাগুলো হতাশা, অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ সকল সৃষ্ট সমস্যায় যে সকল পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে- ১। হাসপাতালগুলোতে জনবল বৃদ্ধি করা সহ জরুরী চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধি করা, ২। এ্যাম্বুলেন্স সেবা বৃদ্ধি করা ৩। একটিভ রেফার‍্যাল সিস্টেম চালু করা ৪। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেয়া এবং ৫। স্বাস্থ্য কর্মী, পিতামাতা এবং শিক্ষকগণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে কাউন্সিলিং করা।


লেখক: মোহাম্মদ মেসবাহউর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

বায়োস্ট্যাটিসটিক্স বিভাগ

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম)। 

আজকের সিলেট/ মিমো

সিলেটজুড়ে


মহানগর