যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন এই জুলাইমাসের গুরুত্ব থাকবে : শিক্ষা উপদেষ্ঠা
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:৫৪ PM

যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন এই জুলাইমাসের গুরুত্ব থাকবে : শিক্ষা উপদেষ্ঠা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০/০৭/২০২৫ ০৪:৫৪:২৩ PM

যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন এই জুলাইমাসের গুরুত্ব থাকবে : শিক্ষা উপদেষ্ঠা


শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, জুলাই মাস বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন এই জুলাইমাসের গুরুত্ব থাকবে। কারন আমরা জাতি হিসেবে জুলাই মাসে পুনর্জন্ন নিয়েছি। এই পুনর্জন্ম তরুণরাই এনে দিয়েছে। আমদেরকে সংবেদনশীল একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু বলে কেউ থাকবে না, সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে।

বুধবার দুপুরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লেভেল-১ সেমিস্টার-১ এ ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয়করণ করা হয়েছিল, গণরুমের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল। সরকার সফল ভাবে এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। গুম, বিচারবাহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘর এসবের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেয়া হয়েছিল।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাই ২৪ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করেছি। বিগত ১৭ বছর আমরা আমাদের নাগরিকত্ব সপে দিয়েছিলাম একটি ফ্যাসিবাদি সরকারের কাছে। যারা পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে দাসত্বের চুক্তি করেছিল। আমরা কখনো ভাবিনি এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হবে। গুম, খুন, আয়নাঘর, বিচারহীনতার মধ্য দিয়ে চলছিল এই বাংলাদেশ। এর থেকে পরিত্রাণ তোমরাই দিয়েছো। ছাত্র-জনতার এই অর্জনকে ম্লান হতে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন বিগত ফ্যাসিস্ট রেজিম যে দাসত্বের সংস্কৃতি চালু করেছিল আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমাদের মাঝে বিভাজন তৈরী না করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় লেজুর ভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নতুন বাংলাদেশে তোমরা নিজেদেরকে আপন স্বকীয়তায় উপস্থাপন করবে, রাজনৈতিক দলগুলো কিভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে তা তোমরা নির্ধারন করবে। তোমাদের ধৈর্যশীল ও রুচিশীলতার পাশাপাশি উন্নত মনের বিবেকবান ও সুন্দর মনের মানুষের পরিচয় দিতে হবে। এসময় তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে বর্তমান সরকার। অংশীদারদের সাথে বসে  তাদের চাহিদা অনুযায়ী নীতি নির্ধারন করতে হবে, পেশীশক্তির ব্যবহার রোধ করতে হবে, সহনশীলতা সহমর্মিতার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সহশিক্ষার কার্যক্রমে গুরুত্বারোপের পাশাপাশি সমাজে পিছিয়ে পরাদের এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত করে নিজেদের মেলে ধরবে । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল নলেজ বাড়ানোর জন্য বিশ্ব আঙ্গিকে লাইব্রেরিকে উপযুক্ত করতে হবে যা গবেষণার কাজকে আরো ত্বরান্বিত করবে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং ওরিয়েন্টেশন বাস্তাবায়ন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি লর বক্তব্য রাখেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য খান মো. রেজা-উন-নবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এটিএম মাহবুব-ই-এলাহী।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কাওছার হোসেন, প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, রেজিস্ট্রার (অ.দা) প্রফেসর ড. মোঃ আসাদ-উদ-দৌলা প্রমুখ।


আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর