ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর বার্ষিক ওরস এবার শেষ হয়েছে শিরণী বিতরণ ছাড়াই। প্রতিবছর আখেরি মোনাজাতের পর শিরণী বিতরণের মধ্য দিয়ে ওরস শেষ হওয়ার প্রথা থাকলেও এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম।
শুক্রবার বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
তবে শিরনি বিতরণে মারামারি হয় তাই প্রশাসন নির্দেশে এবার শিরনি বিতরণ বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছেন শাহপরান (রহ.) মাজারের খাদেম আব্দুল আজিজ।
জানা যায়, গত বছর অক্টোবর মাসে ওরস চলাকালে অসামাজিকতার জন্য সংঘর্ষ হয়, যেখানে অন্তত সাতজন আহত হন এবং মাজারের বেশ কিছু অংশ ভাঙচুর করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে গান-বাজনা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। তাই এবার ওরসকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য গত ২৬ আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সমন্বয় সভা আয়োজন করেন। সভায় মাজারের পবিত্রতা রক্ষা, অনৈসলামিক কার্যক্রম বন্ধ ও জিয়ারতের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য কমিটি এসএমপি কমিশনার মোঃ রেজাউল করিমকে সভাপতি করে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়।
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া বলেন, বিগত কোনো সময়ই শাহপরান মাজারে শিরনি বিতরণ নিয়ে মারামারি হতে শুনিনি। এবার যদি মব বা মারামারির অজুহাতে শিরনি বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করা হয় তাহলে এটা খুবই অন্যায় একটা সিদ্ধান্ত। প্রশাসন ভূমিকা নিচ্ছে কিন্তু চোখ কান বন্ধ রেখে হাত পা গুটিয়ে। ওরসের শিরনিও এটাও একটি ঐতিহ্য। ধর্মীয় দিক ছাড়াও শিরনি বিতরণ আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমরা কোনো ভাবেই শিরনি বিতরণের বন্ধের পক্ষে না।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








