ভাঙাচোরা ২৫০ কিলোমিটার সড়ক, দূর্ভোগে নগরবাসী
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৮:০২ PM

ভাঙাচোরা ২৫০ কিলোমিটার সড়ক, দূর্ভোগে নগরবাসী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২৫ ০৯:০০:৪৫ AM

ভাঙাচোরা ২৫০ কিলোমিটার সড়ক, দূর্ভোগে নগরবাসী


বৃষ্টির পানি জমে নগরের বিভিন্ন সড়ক খানাখন্দে ভরা। পিচের ঢালাই উঠে বড় বড় গর্ত অনেক সড়কে। ভাঙাচোরা এসব সড়কে চলাচল করাই দায়। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই এ চিত্র সিলেট নগরীতে। সড়ক সংস্কার না করায় দূর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না নগরবাসীর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে টেকসই সড়ক নির্মাণে জোর দিতে হবে। সড়কের ডিজাইন ও নির্মাণের মান নিশ্চিত করতে হবে। সড়কে যেন পানি জমে না থাকে, সেভাবে প্রতিটা সড়কের ডিজাইন করতে হবে। তাহলে সড়ক টেকসই হবে। দীর্ঘদিনেও সড়কের ক্ষয় হবে না।

নগরবাসী বলছেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) সড়ক সংস্কারে উদাসীন। যেসব সড়ক, সিটি কর্পোরেশনের, সেগুলো যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয়। তারা বলেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করা হয়, কিন্তু সেবা সেই মানের দিতে পারছে না সিটি কর্পোরেশন।

তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে, নিয়মিতই সড়ক সংস্কার করা হয়। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সবগুলো সড়কই সংস্কার করা হবে।

সিসিকের তথ্য বলছে, নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে মোট সড়ক আছে ১ হাজার ৬৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে পুরোনো ২৭টি ওয়ার্ডে সড়ক আছে ৬৬৮ কিলোমিটার। নতুন ১৫টি ওয়ার্ডে সড়ক ৪০০ কিলোমিটার। নতুন ও পুরাতন সবকটি ওয়ার্ড মিলিয়ে ২৫ শতাংশ সড়ক ভাঙচোরা। সেই হিসেবে নগরের ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কে বৃষ্টির পানি জমে এসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই অনেক সড়কে বৃষ্টির পানি জমে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ভাঙাচোরা সড়কের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, সিলেট নগরের আখালিয়া নতুন বাজার সড়কটির বেহাল দশা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে আছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। ফলে মদীনা মার্কেট থেকে নতুন বাজার-শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়-টিলারগাও এলাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের দূর্ভোগের অন্ত নেই।

অপরদিকে সিলেট নগরের প্রবেশমুখ চন্ডিপুল থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বর, এই দুই কিলোমিটার সড়ক যেন মরণফাঁদ। বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে মহাসড়কে। দীর্ঘদিন ধরে ছোট বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ফলে দূর্ঘটনার শঙ্কাও বেড়েছে বলে জানান চালকরা। সড়কটির মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু এ ব্যাপারে উদাসীন সওজ, এমনটাই জানালেন চালকরা। সড়কটি সংস্কারে তেমন কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।

নগরীর লালদিঘীরপার, কালীঘাট, ওসমানী শিশু পার্কের সামনের সড়ক, শিবগঞ্জ, দাদাপীরের মাজারের ভেতরের সড়ক, শাহজালাল উপশহরসহ বেশ কিছু সড়কের পিচ ঢালাই উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কালীঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, নগরীর প্রধান পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র কালিঘাট, বন্দরবাজার, লালদিঘীপার সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাইকারীবাজার হওয়ায় প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে মালামাল নিয়ে দূরপাল্লার অনেক ভারি যানবাহন চলাচল করে। যে কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কটি ব্যস্ত থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে মজলিস হোটেলের সম্মুখ থেকে লালদিঘী হয়ে কালিঘাট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। খানাখন্দে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা দায়। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটির আরো করুণ দশা ফুটে উঠে। কদমাক্ত সড়কে হাটাচলা করা মুশকিল হয়ে পড়ে। কারীঘাট থেকে ক্বীন ব্রিজের সড়কেরও একই অবস্থা। অধিকাংশ গর্তে পানি জমে থাকে। ফলে চলাচল দুরহৃ হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সড়কের খারাপ অবস্থা ব্যবসার উপরও প্রভাব ফেলছে।

একইভাবে সড়কের বেহাল দশা জেল রোড পয়েন্ট থেকে ওসমানী শিশু পার্ক ও মিরাবাজার থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত। আবার শিবগঞ্জ থেকে টিলাগড় পয়েন্ট পর্যন্ত বেশকিছু অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এমসি কলেজ, সরকারি কলেজসহ এই সড়ক মাড়িয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাতেও যেতে হয়। যে কারণে সড়কটি অনেক গুরুত্ব বহন করে। যদিও এই সড়কটি সওজের। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই সড়কটি সংস্কারে উদাসীন বলে অভিযোগ এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের।

নগরের রায়নগর দাদাপীর মাজার থেকে শাহী ঈদগাহ সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে। বড় বড় মগর্তে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা দায়। খানাখন্দের জায়গা দিয়ে গাড়ি ধীরে ধীরে চলাচল না করলে উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। অনেক সময় গাড়ি উল্টে গিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু এসব সড়কই নয়, সিটি কর্পোরেশনের । প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার সড়কগুলোর অবস্থাও এমন। মাসের পর মাস মানুষ কষ্ট করছেন, দুর্ভোগে পড়ছেন। তবুও সংস্কার হচ্ছে না সড়কগুলো।

লালদিঘীরপাড়ের ব্যবসায়ী আশিক উদ্দিন বলেন, সড়কে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা থাকায় ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ভোগান্তি আরও বেশি। সড়কের এই দশায় গ্রাহক কম আসেন। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যবসায় প্রভাব পড়ে।

রিকশা চালক অর্জুন দাস বলেন, লালদিঘীরপার এলাকায় রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। গর্তের কারণে রিকশাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে এই সড়ক দিয়ে রিকশা চালকরা তেমন একটা যেতে আগ্রহী হয় না।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, সিটির কর্পোরেশনের যেসব সড়ক ভাঙাচোরা রয়েছে, তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। বৃষ্টি মৌসুম কমলে সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনেক সড়ক রয়েছে। সওজের যেসব সড়ক ভাঙাচোরা, তা দ্রুত সংস্কার করতে সওজকে বলা হবে।

নির্মাণ বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক ড. মোশতাক আহমেদ বলেন, দেশে টেকসই সড়ক নির্মাণে জোর দিতে হবে। সড়কের ডিজাইন ও নির্মাণের মান নিশ্চিত করতে হবে। সড়কে যেন পানি জমে না থাকে, সেভাবে প্রতিটা সড়কের ডিজাইন করতে হবে। তাহলে সড়ক টেকসই হবে। দীর্ঘদিনেও সড়কের ক্ষয় হবে না।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর