ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ PM

ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২৫ ০৯:০৬:২৭ AM

ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন


দীর্ঘ ৫ বছর পর ঝুলে থাকার পর অবশেষে একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সিলেটের বহুল প্রতিক্ষীত ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ প্রকল্প অনুমোদনের ফলে ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ নিয়ে জটিলতা কেটেছে।

বুধবার প্রধান উপদেষ্টা এবং একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প ছাড়াও আরও ১২টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

প্রকল্পগুলোতে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ৪ হাজার ৪৩৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ২২৫ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৭টি, সংশোধিত ৫টি এবং ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধির ১টি প্রকল্প রয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ১টি প্রকল্প ‘ঢাকাস্থ মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (১ম সংশোধিত) ৪র্থ বার বৃদ্ধি’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প বার বার মেয়াদ বাড়িয়েও সাত বছরে মাত্র ২২ শতাংশ কাজ হয়েছে। এত দিন ‘নকশায় ত্রুটি’ নিয়েই কাজ হয়েছে ঢিমেতালে। চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই প্রকল্পের খোঁজ নিতে গেলে বেরিয়ে আসে ‘মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ’ নকশা রেখেই ঢিমেতালে কাজ এগিয়ে নেয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এখন চতুর্থ দফায় সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। একই সাথে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৪৭০ কোটি টাকা। ব্যয় বাড়ায় এখন বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৭৯ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর কিছু ডিজাইনে ত্রুট ধরা পড়ে। তার পরই দেখা দেয় বিপত্তি। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) মানদ- অনুযায়ী ডিজাইন না হওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডিজাইনে সংশোধনী এনে প্রকল্প নতুন করে একনেকে পাঠানো হয় ২০২০ সালে। এরপর থেকেই সংশোধিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি রয়েছে এই প্রকল্পে। কাউকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে নকশায় ত্রুট রেখেই প্রকল্পটি পাস করেছিল তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার।

তথ্য মতে, ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর দুই হাজার ৩০৯ কোটি টাকায় এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ডিসেম্বর ২০২১। প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফুয়েলিং সিস্টেম স্থাপন, একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ভবন নির্মাণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পৃথক সাব-স্টেশন স্থাপন, নিরাপত্তার জন্য ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম ও যাত্রীদের জন্য এসকালেটর স্থাপন করার কথা। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক আরো কিছু উন্নয়ন কাজও এতে সংযুক্ত রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, একনেকে প্রকল্প পাসের ২ বছরেও কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর। ওই সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের সিকিভাগ কাজও শেষ করতে পারেনি । পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ২০২৩ সালের ২৭ মে পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কাজ শুরুর পরে নকশায় ত্রুট ধরা পড়ে। তখন কাজ আংশিক বন্ধ রাখা হয়। তৃতীয় দফায় প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ডিসেম্বর ২০২৫। এই সময়ের মধ্যেও প্রকল্পের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। সাত বছরে কাজের সার্বিক অগ্রগতি মাত্র ২২ শতাংশ।

তথ্য বলছে, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সিলেটের মোট জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। বিদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিমানবন্দরগুলোতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই যাত্রী ও বিমান চলাচলের সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রগুলো বেশির ভাগ সিলেট অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এবং শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ সহজলভ্য হওয়ায় সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক হারে শিল্পায়ন হচ্ছে। ফলে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। এ জন্য বিমানবন্দরটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি সিলেটবাসীর।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর