ঈদুল আজহায় অনেকেই কুরবানি দিয়ে থাকেন। পরে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কুরবানির পশু গরু বা খাসির মাংস বণ্টন করা হয়। ফলে এই ঈদে প্রায় সবার বাসা-বাড়িতেই গরু ও খাসির মাংস থাকে। তবে প্রচলিত কিছু ধারণার কারণে অনেকেই এই মাংস খেতে দ্বিধা করেন। অনেকের ধারণা, গরু বা খাসির মাংস খেলেই কোলেস্টেরল বেড়ে যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায় বা হার্টের রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, গরু-খাসির মাংস একেবারেই ক্ষতিকর নয়।
এ পুষ্টিবিদ বলেন, কোনো একক খাবার সাধারণত একা একটি রোগের কারণ হয় না। বরং আমাদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের ধরন, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ, ঘুম, চাপের ধরন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য-সবকিছু একসঙ্গে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে।
প্রথমেই একটি বিষয় বুঝতে হবে, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন বড় পরিমাণে গরু বা খাসির মাংস খান না। কিন্তু অনেকেই নিয়মিত অতিরিক্ত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, বেকারি খাবার, ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করেন। এসব অতিরিক্ত গ্রহণ করা হলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়।
সমস্যাগুলো হলো- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্বাস্থ্য বেড়ে যাওয়া, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড, ফ্যাটি লিভার ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এমনকি এসব দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ সংক্রান্ত রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও যোগ করেন তিনি।
পুষ্টিবিদ সামিনা জামান কাজরী বলেন, তবে এটাও সত্য, গরু ও খাসির মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল থাকে। এ জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে, বিশেষ করে খুব চর্বিযুক্ত অংশ নিয়মিত খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেতে পারে। এ জন্য পরিমাণ এবং রান্নার ধরন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, গরু ও খাসির মাংস অত্যন্ত নিউট্রিয়েন্ট ডেনস বা পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। এতে রয়েছে- উচ্চ মাত্রার পরিপূর্ণ প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড। যা পেশির স্বাস্থ্য, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, শক্তি উৎপাদন, রক্তকণিকা সৃষ্টি এবং সামগ্রিক পুষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বাড়ন্ত শিশু, কিশোরী, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দুর্বলতায় বা অ্যানিমিয়াতে ভোগা ব্যক্তি এবং যারা পেশি তৈরি করতে চান, তাদের জন্য পরিমিত পরিমাণ মাংস উপকারী হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মূল বিষয় হচ্ছে, আপনি কীভাবে খাচ্ছেন বা আপনার খাবার খাওয়ার ধরন কেমন।
এ পুষ্টিবিদ বলেন, যদি অতিরিক্ত তেল ও দৃশ্যমান চর্বি কমিয়ে, মাংস মেরিনেট করে, ভারসাম্য বজায় রেখে প্রচুর পরিমাণ সবজি, সালাদ ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখা হয় খাদ্যতালিকায়; তাহলে সেটি স্বাস্থ্য খাবারের অংশ হতে পারে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








