কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নিয়ে কেন এত উদ্বেগ?
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ PM

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নিয়ে কেন এত উদ্বেগ?

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪/০৬/২০২৬ ১১:০৩:০১ AM

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নিয়ে কেন এত উদ্বেগ?


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের গৌরবময় ইতিহাস থাকলেও দলটির নামের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে কর্তৃত্ববাদ, বিরোধী মত দমন, গুম-খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ। ২০২৪ সালে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর বিএনপিও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগকে নিয়ে উদ্বেগ, আলোচনা ও বিতর্ক থামছে না।

২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে সরকার। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও আওয়ামী লীগ ঠেকাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে ছিল।

ঢাকা মহানগরে সম্ভাব্য কর্মসূচি ঠেকাতে প্রায় ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর—এই ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে গোপালগঞ্জে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ১৭ বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছে এই দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন সুবিধাভোগী। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সেই অর্থ দিয়ে বিদেশে থাকা দলটির নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। আর এ কারণেই দেশের রাজনৈতিক মহল এবং সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে নিয়ে উদ্বিগ্ন।

প্রশ্ন উঠছে আওয়ামী লীগ কি আবার ফিরবে, নাকি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে? এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এতো বড় অর্জন অন্য কোনো দলের নেই। তাই আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সুযোগ ফুরিয়ে যায় নি। বরং এ কারণেই আওয়ামী লীগকে নিয়ে প্রতিপক্ষের এতো উদ্বেগ। আওয়ামী লীগের জন্মদিনে তাই এতো পুলিশ ও সেনা বাহিনী মোতায়েন। এতো ধরপাকড়।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা থেকে ক্ষমতার শীর্ষে
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকা ইতিহাসের অংশ।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০০৯ সাল থেকে টানা প্রায় দেড় দশক ক্ষমতায় থেকে দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একক প্রভাব বিস্তার করে।

উন্নয়ন বনাম কর্তৃত্ববাদ
আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থকরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সূচকে অগ্রগতির ব্যাপক প্রচার করলেও একই সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগও ওঠে। বিশেষ করে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার, হামলা কিংবা রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বহু গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সমালোচকদের মতে, আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে একটি নির্বাচনী গণতন্ত্র থেকে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দেয়, যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলীয় কাঠামোর মধ্যে পার্থক্য ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

২০২৪ : গণঅভ্যুত্থান ও পতন
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক চাপ এবং গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জনবিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। একইসঙ্গে শুধু তার দলীয় নেতাকর্মী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নয়; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, প্রধান বিচারপতি, সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমনকি জাতীয় মসজিদের খতিব পর্যন্ত দেশ ছাড়েন বলে আলোচনা হয়। এই ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও বিরোধীরা একে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের রায় হিসেবে দেখছেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তবু কেন উদ্বেগ?
দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও আওয়ামী লীগকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কেন আলোচনা কমছে না? কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়; বাংলাদেশের সমাজ, রাষ্ট্র এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বহু স্তরে দলটির দীর্ঘ প্রভাব রয়েছে। সেই কারণেই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন এবং উদ্বেগ দুটোই সমানভাবে বিদ্যমান।

এ প্রসঙ্গে জবান পত্রিকার সম্পাদক রেজাউল করিম রনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়টা আসলে এক্সপায়ার হয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন পোস্ট-আওয়ামী লীগ পিরিয়ডে চলে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সাংস্কৃতিকভাবে খুব শক্তিশালী, তাদের প্রচুর অর্থনৈতিক শক্তি আছে। এজন্য তারা এটা মানতে পারছে না। তারা এখনও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, মিছিল করার চেষ্টা করছে। এটা তারা করবেই।

রনির মতে, এর মাধ্যমে সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের জীবনই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগের তৃণমূল সমর্থকরাও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চান না। হাসিনা তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং তারা প্রতারিত হয়েছেন। তাই আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দায়িত্ব জনগণের জানমালের সুরক্ষা দেওয়া। সুতরাং সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া মানেই উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার বিষয়—এমনটা নয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চর্চা সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চেয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে তারা অনেকটা সফল হয়েছে। কারণ সরকার বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তাও নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তারা ঝটিকা মিছিল, সভা ও সমাবেশ করার চেষ্টা করেছে। বেশ কিছু জায়গায় ধরপাকড়ও হয়েছে।

তিনি বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেহেতু সরকার তাদের সভা-সমাবেশ করতে দেবে না—এটাই আইনসঙ্গত।

সোহরাব হাসান বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি। বিএনপিও একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি। অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো একটি সমাজের অংশকে বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করা যায় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করেছে এবং কিছু সময় সুবিধাও পেয়েছে। কিন্তু শেষ বিচারে তারা পরাজিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ফিরবে নাকি ফিরবে না?
ইতিহাস বলছে, আওয়ামী লীগ বহুবার সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় দলটির সামনে রয়েছে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ—গণঅভ্যুত্থানের দায়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, নেতৃত্বের সংকট এবং জনমনে সৃষ্ট নেতিবাচক ভাবমূর্তি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চর্চা সম্পাদক সোহরাব হাসান মনে করেন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্ভর সমাধান কার্যকর হবে না। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে বলপ্রয়োগ করে সমাধান হবে না। আবার ঝটিকা মিছিল করে আওয়ামী লীগও পুনর্বাসিত হবে না। রাজনৈতিক পরিবেশ, প্রেক্ষাপট ও সময়ই বলে দেবে আগামীতে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে কতটা প্রাসঙ্গিক হবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো মুসলিম লীগ হয়ে যায়নি। তাদের একটি নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক আছে। আমরা দেখেছি, জাতীয় নির্বাচনের সময় সেই ভোটারদের নিজেদের দিকে আনার জন্য সব রাজনৈতিক দলই চেষ্টা করেছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জবান সম্পাদক রেজাউল করিম রনি মনে করেন, আওয়ামী লীগের সামনে বর্তমানে কোনো সুযোগ নেই। কারণ, এখন পর্যন্ত দলটি তাদের রাজনৈতিক ভাষার কোনো পরিবর্তন করেনি।

তার মতে, আওয়ামী লীগ যদি রাজনীতিতে ফিরতে চাইত, তাহলে এখনো হুমকির ভাষায় কথা বলত না, সন্ত্রাসের ভাষা ব্যবহার করত না। বরং রাজনৈতিক ভাষা রপ্ত করার চেষ্টা করত এবং রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করত।

তিনি বলেন, সেই সম্পৃক্ততার জন্য আওয়ামী লীগকে তাদের অতীতের নির্বাচনী অনিয়ম, খুন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে হবে। অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে এবং একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। এর মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে হবে।

তার মতে, তা না করে যদি তারা বলে মেরে কেটে শেষ করে ফেলবো, দেখে নেবো—এ ধরনের হুংকার ও সহিংসতার ভাষায় কথা বলে, তাহলে তাদের ফিরে আসা কঠিন।

আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি বড় যুক্তি হলো—১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পরও দলটি ২১ বছর পরে ক্ষমতায় ফিরেছিল। তাহলে এবার কেন ফিরবে না?

এই প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম রনি বলেন, দুটি প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন আওয়ামী লীগ ছিল ভুক্তভোগী। ১৫ আগস্ট ছিল একটি বর্বর ও অমানবিক ঘটনা। আওয়ামী লীগ সেই ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করতে পেরেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে আওয়ামী লীগ ভুক্তভোগী নয়, বরং জনগণের কাছে অভিযুক্ত পক্ষ। ফলে দুই সময়কে এক করে দেখা যাবে না।

তার মতে, অতীতে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষের পক্ষে তথ্য যাচাই করা অনেক সহজ হয়েছে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের কার্যত ইতি ঘটেছে। সাধারণত মানুষের স্মৃতিতে রাজনৈতিক নেতাদের শেষ পরিণতিই সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেয়।

তার মতে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে একজন স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়েছে একজন স্বৈরাচারের ভুক্তভোগী হিসেবে। ফলে খালেদা জিয়ার প্রতি যে সহানুভূতি তৈরি হয়েছে, শেখ হাসিনা তা অর্জন করতে পারেননি।

মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, সেনাবাহিনী যখন জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়, তখন সরকারের ভবিষ্যৎ কার্যত নির্ধারিত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চাইলে দেশে থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারতেন। তাকে হত্যা করা হতো—এ ধরনের বক্তব্য আমি বিশ্বাস করি না।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, শেখ হাসিনাকেন্দ্রিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক দর্শনের মাধ্যমে দলটি পুনর্গঠিত হলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

অন্য অংশের মতে, ২০২৪ সালের ঘটনা আওয়ামী লীগের জন্য এমন একটি রাজনৈতিক মোড়, যেখান থেকে পুরনো রূপে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব।

কারণ দলটি এখন এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে উন্নয়নের বয়ানের চেয়ে গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিই বেশি আলোচিত হচ্ছে।

তবে দলটির উত্থান, দীর্ঘ শাসন এবং নাটকীয় পতন আগামী দিনে তাদের রাজনৈতিক আলোচনায় রাখবে কি না, নাকি ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ গণমানুষের স্মৃতি থেকে বিলীন হয়ে যাবে-তা সময়ই বলে দেবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর