ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সিআইডি ঢাকা মেট্রোর (পশ্চিম) বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজির।
তিনি বলেন, আমরা ডনকে এনেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডন সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলাতেই ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন। এর মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের মৃত্যুর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। তাঁর পরিবার বরাবরই দাবি করে আসছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল, তারা হত্যা মামলা করতে গেলেও পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অপমৃত্যুর মামলা তদন্তের সময় যদি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় রূপ নেবে।
মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সালমান শাহ। দর্শক ও সমালোচকদের কাছে তিনি ছিলেন নব্বইয়ের দশকের ঢালিউডের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর অকালমৃত্যু আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আলোচিত ও বহুল চর্চিত ঘটনা।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
বিনোদন ডেস্ক 








