কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত যুবকের লাশ হস্তান্তর
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ PM

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত যুবকের লাশ হস্তান্তর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৮/২০২৬ ০৬:১৬:২৯ PM

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত যুবকের লাশ হস্তান্তর


মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক তারা মিয়ার (১৯) লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তারা উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।

গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিএসএফ-বিজিবি পতাকা বৈঠকে ভারতীর পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারার মরদেহ হস্তান্তর করেন।

কুলাউড়া পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৫টায় তারার মরদেহ হস্তান্তরের জন্য চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় পতাকা বৈঠক হয়। নিহত তারার বড় ভাই রাজু মিয়া লাশ গ্রহণ করেন।

জানা যায়, শনিবার রাত ৩টার পর কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা রেনু মিয়া, সুমন মিয়া, রইস আলী ও তারা মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরুলী এলাকায় চোরাই পণ্য আনতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে।

এসময় বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের টহল দল তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এসময় তার সঙ্গে থাকা বাকি সহযোগীরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যায়।

নিহত তারা মিয়ার মা আজিরুন্নেছা বলেন, ‘আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারে জড়িত ছিলো না। টাকার লোভ দেখিয়ে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন লোক। তখন বাধা দিলে ছেলে কথা শুনেনি। পরে তারা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলে। আমার বুকটা খালি হই গেল।’

কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, দুই দেশের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ সোমবার বিকেলে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করেছে। পরিবারের কাছে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি তরুণ তারা নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফের কর্মকর্তাদের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দুই দেশের পতাকা বৈঠকের পর নিহত তরুণের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তরুণ চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী যুবকেরা অপরাধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার বাড়ানো হবে। সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর