মজুরি ৫০০ টাকা না হলে আন্দোলন জোরদারের হুঁশিয়ারি চা-শ্রমিকদের
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪০ AM

মজুরি ৫০০ টাকা না হলে আন্দোলন জোরদারের হুঁশিয়ারি চা-শ্রমিকদের

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/০৮/২০২৬ ০৪:১৭:২২ PM

মজুরি ৫০০ টাকা না হলে আন্দোলন জোরদারের হুঁশিয়ারি চা-শ্রমিকদের


মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন চা-শ্রমিকেরা। ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল করে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তারা।

চা-শ্রমিকেরা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে পরিবার নিয়ে জীবনধারণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তারা। শুক্রবার সকালে কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া চা-বাগানে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মুরইছড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়কৃষানের সভাপতিত্বে সমাবেশটি পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সত্যজিৎ উরাং। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদ, শ্রমিকনেতা ভাগ্য, রাজু উরাং, মনি নায়েক ও মালতি রায়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় চা-শ্রমিকেরা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করছেন। বর্তমানে একজন চা-শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা। মাসে ২৬ দিন কাজ করলেও তাদের আয় দাঁড়ায় মাত্র ৫ হাজার ২৩৬ টাকা। অন্যদিকে প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে এ সামান্য আয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ১০ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দেশে মানুষের মাসিক গড় আয় ৩০ হাজার ৭৩৯ টাকা। এর সঙ্গে চা-শ্রমিকদের মাসিক আয়ের তুলনা করলেই তাদের সঙ্গে বিদ্যমান আয়বৈষম্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তারা আরও বলেন, কোনো কোনো চা-বাগানে দৈনিক হাজিরা পাওয়ার জন্য একজন শ্রমিককে ২৩ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত চা-পাতা সংগ্রহ করতে হয়। বিপুল পরিমাণ শ্রম দেওয়ার পরও তারা দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন মজুরি পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী দৈনিক মজুরি ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ৮ টাকা বেড়েছে। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে এই সামান্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি কুলাউড়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে সংসদে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কয়েকজন সংসদ সদস্যও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। শ্রমমন্ত্রী বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে আশ্বস্ত করায় পরে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়। তবে শ্রমমন্ত্রী চা-শ্রমিকেরা হাজিরার বাইরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে বাগান মালিকদের প্রচারণা বলে দাবি করেন শ্রমিকেরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, চা-শিল্পে প্রতিবছর উৎপাদনের নতুন রেকর্ড তৈরি হলেও শ্রমিকদের জীবনমানের তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না। নিলামে চায়ের দাম বাড়লেও মালিকপক্ষ লোকসানের অজুহাতে শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে আগ্রহী নয়। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় চা-শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।

তারা বলেন, এ অঞ্চলে ১৮৫ বছর ধরে বসবাস করেও চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনো ভূমিহীন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০২২ সালের আগস্টে ১৯ দিনের আন্দোলনের মাধ্যমে চা-শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি আদায় করেছিলেন। এবারও রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই ন্যায্য মজুরি আদায় করা হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।

দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়ে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ বলেন, সংসদে নয়, চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়বে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে। তিনি ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল করে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর