রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাটে মাঠজুড়ে চলছে আমন ধান রোপণের ব্যস্ততা। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষকেরা দ্রুত চারা রোপণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে এখন চোখে পড়ছে সবুজের সমারোহ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী-পুরুষ কৃষক ও শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমি চাষ করছেন, কেউ ধানের চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ জমির আইল কেটে রোপণের উপযোগী করে তুলছেন।
স্থানীয় কৃষক নুরুল আমিন বলেন, আল্লাহর রহমতে এবার সময়মতো বৃষ্টি হয়েছে। জমিতে প্রয়োজনীয় পানি আছে। তাই দেরি না করে ধান লাগানোর কাজ করছি। আশা করছি এবার ফলনও ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোয়াইনঘাটে প্রায় ১৮ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী ও হাইব্রিড জাতের ধান বেশি রোপণ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রণি জানান, এখন পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে আমন আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত চারা রয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বন্যা না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আমন আবাদ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তীব্র গরমের কারণে কৃষক ও শ্রমিকদের মাঠে কাজ করতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। অনেক শ্রমিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন না। এ কারণে কিছুটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।
রায়হান পারভেজ রণি আরও বলেন, দিনে প্রচণ্ড গরম থাকলেও রাতে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আপাতত আমন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সকাল ১০টার পর রোদের তীব্রতা বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে গরমের কারণে অনেকটা সময় মাঠ ফাঁকা থাকে।
এর সঙ্গে শ্রমিক সংকট এবং কৃষি উপকরণের বাড়তি দাম নিয়েও কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। তবে নতুন ফসলের আশায় এসব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই তারা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গোয়াইনঘাট উপজেলার অধিকাংশ জমিতে আমন ধান রোপণের কাজ শেষ হবে। অনুকূল পরিবেশ থাকায় এবার আমনে ভালো ফলনের সম্ভাবনাও দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








