স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ৯৮ হাজার ১৯৬ ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ PM

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ৯৮ হাজার ১৯৬ ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০/০৯/২০২৬ ০৭:২৪:০৪ PM

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ৯৮ হাজার ১৯৬ ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য মোট ৯৮ হাজার ১৯৬টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত ২৭ আগস্ট মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে বিভিন্ন এলাকার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে একত্র করে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ৪২৫টি—সব মিলিয়ে ৪৬ হাজার ৩৯৭টি।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৪৬৬টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে স্থায়ী ৪১ হাজার ৪৪৭টি এবং অস্থায়ী ১৯টি। এসব কেন্দ্রে স্থায়ী ভোটকক্ষ ২ লাখ ১৯ হাজার ৮২২টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ ১৩ হাজার ৪৮৩টি। মোট ভোটকক্ষ ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৫টি।

পৌরসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থাকবে ৫ হাজার ২০২টি। এর মধ্যে স্থায়ী ৫ হাজার ১৮৪টি ও অস্থায়ী ১৮টি। এসব কেন্দ্রে স্থায়ী ভোটকক্ষ ২৪ হাজার ৭৬৯টি এবং অস্থায়ী ১ হাজার ১৯৭টি—মোট ২৫ হাজার ৯৬৬টি।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র। এতে স্থায়ী ভোটকক্ষ ২৩ হাজার ১০৭টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ ১ হাজার ৯৫৮টি। সব মিলিয়ে ভোটকক্ষের সংখ্যা ২৫ হাজার ৬৫টি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কেন্দ্র রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, অতীতে কোনো কোনো ইউনিয়নে দুই বা তিনটি ভোটকেন্দ্র থাকলেও এবার প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য আলাদা একটি কেন্দ্র থাকবে। এ কারণে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

তবে জেলা পরিষদের জন্য আলাদা ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করেনি ইসি। কারণ, জেলা পরিষদের নির্বাচন সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত হয় না।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে কমিশন মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারে, সে জন্য নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের কাজও সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে শুরু করতে বলা হয়েছে।

তফসিলের সময় সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটা তফসিল দিতে পারব।’ তবে দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও আইনগত সময়সীমাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই ভোটের সময় নির্ধারণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

সিইসি আরও বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে আমাদের এই বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে। আইনি বিষয় আছে এখানে। এই বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে।’

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কয়েক ধাপে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঁচ ধাপে নাকি ছয় ধাপে ভোট হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে উপজেলা ভিত্তিক নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ একটি উপজেলার সব ইউনিয়নে একই সময়ে ভোট নেওয়া হবে। একটি উপজেলার কিছু ইউনিয়ন এক ধাপে এবং বাকিগুলো অন্য ধাপে করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন।

ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসরণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, গড়ে ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র থাকবে। সাধারণভাবে ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য একটি এবং ৫০০ জন মহিলা ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপনকক্ষ রাখা যাবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যে অন্তত একটি ভোটকেন্দ্র থাকতে হবে। বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় কোনো ওয়ার্ডে একাধিক কেন্দ্রও করা যাবে।

ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ১০ আগস্ট খসড়া তালিকা মাঠ পর্যায়ে প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ওই তালিকার ওপর দাবি ও আপত্তি নেওয়া হয়। সেগুলো ২৩ আগস্ট নিষ্পত্তির পর ২৭ আগস্ট মাঠ পর্যায়ে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ৩০ আগস্টের মধ্যে মাঠ পর্যায়ের তথ্য ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে বলা হয়। পরে এসব তথ্য একীভূত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিশনে উপস্থাপন করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়েছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মামলা ও সীমানা-জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। অন্যগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।

পৌরসভার রোডম্যাপে বলা হয়েছে, দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে বাকি ১০টি এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়।

উপজেলা পরিষদের ক্ষেত্রে নতুন পাঁচটি উপজেলাসহ দেশে মোট উপজেলা ৫০০টি। কোনো উপজেলাতেই বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব উপজেলাকেই নির্বাচন উপযোগী হিসেবে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে নতুন সিটি করপোরেশন বগুড়াসহ দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। এসব কোনো সিটিতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী বলে রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর