গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ বন্ধ এবং অসহনীয় লোডশেডিংয়ের অবসানের দাবি জানিয়েছে গ্যাস-বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ পরিষদ। দাবি না মানলে কিংবা গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে সিলেট থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার বিকেলে নগরের কোর্ট পয়েন্টে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ থেকে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদালের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব মকসুদ হোসেন।
সমাবেশে সরওয়ার আহমদ চৌধুরী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি দাবি করেন, গ্যাস-সংকট ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ময়মনসিংহে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গাজীপুরে ২০ থেকে ২২ শতাংশ কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আর চট্টগ্রাম ও সিলেটের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি বাসাবাড়ির চুলাতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে।
সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আরও বলেন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের পকেট শূন্য হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। মানুষের নিজের ঘরও এখন নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়। তাঁর ভাষায়, ‘নুনের চেয়ে খুন সস্তা হয়ে গেছে।’
কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব মকসুদ হোসেন বলেন, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার চালুর পাশাপাশি গ্যাসের মতো বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার চালুর দাবি জানান এবং প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিও তুলে ধরেন।
সমাবেশে নগরের পানির দুর্ভোগ নিরসন এবং ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার দাবিও জানানো হয়।
এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ আকরাম আল সাহান, শাহিদুর রহমান জুনু, কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা নেছারুল হক চৌধুরী বুস্তান, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. অরুণ কুমার দেবসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









