জার্মানিতে বাসার সংকট, ভাড়া নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ PM

জার্মানিতে বাসার সংকট, ভাড়া নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

প্রবাস জীবন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২৬ ০৯:৫১:৩৪ AM

জার্মানিতে বাসার সংকট, ভাড়া নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা


জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস শুরু হচ্ছে। এ সময় লক্ষাধিক নতুন শিক্ষার্থীর জন্য বাসা প্রয়োজন। আর এ সুযোগে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছেন বাংলাদেশিসহ বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিলুর রহমানের বাড়ি ঢাকায়। মাস্টার্স করতে ভর্তি হয়েছেন জার্মানির বার্লিনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে তার ক্লাস। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভিসা পেলেও বাসা পাচ্ছিলেন না তিনি।

শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে পরিচয় হয় একজন ব্যক্তির সঙ্গে। ওই ব্যক্তি তাকে একটি বাসা দেখান। বাসা নিশ্চিত করতে দুই মাসের অগ্রিম ভাড়া বাবদ ১২০০ ইউরো দিতে বলেন তিনি। কম ভাড়ার ভালো বাসা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ থেকেই দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেন জামিলুর। কিন্তু ১৫ সেপ্টেম্বর বার্লিনে নেমে ওই ব্যক্তির নম্বরে যোগাযোগ করে আর সাড়া মেলেনি। উধাও হয়ে যায় বাসার বিজ্ঞাপনের লিংকও। সরাসরি ঠিকানায় গিয়ে জামিলুর দেখেন, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন অন্য একজন ভাড়াটে। এমন ঘটনার শিকার শুধু জামিলুর নন। বাংলাদেশিসহ অসংখ্য বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন একই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে।

আরেক ভুক্তভোগী শারমিন আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামে। পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। জার্মানির কটবুসে স্নাতকোত্তর পড়তে যাওয়ার কথা তার। ফেসবুকের একটি শিক্ষার্থী আবাসন গ্রুপে একটি বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন তিনি। ছবিতে দেখানো হয় সুন্দর একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট। ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় সন্দেহ হয়নি শারমিনের। চুক্তিপত্র নামে একটি কাগজও পাঠানো হয় তাকে। অগ্রিম বাবদ চাওয়া হয় প্রায় সাড়ে আটশ ইউরো। টাকা পাঠানোর পরদিনই বন্ধ হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি। জার্মানি পৌঁছে শারমিন জানতে পারেন, ওই ঠিকানায় আদৌ কোনো খালি ফ্ল্যাট নেই। বাধ্য হয়ে কিছুদিন একজন বাংলাদেশি পরিবারের সঙ্গে থাকতে হয় তাকে।

একই অভিজ্ঞতা হয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্টের রাকিবুল হাসানেরও। হোয়াটসঅ্যাপে পরিচিত এক বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলে একটি রুম ভাড়া নিতে রাজি হন তিনি। ভিডিওকলে বাসা দেখানো হলে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় সবকিছু। জার্মানিতে পা রাখার আগেই জামানতের টাকা পাঠিয়ে দেন রাকিবুল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে ঠিকানায় গিয়ে দেখেন, সেটি আসলে একটি অফিস ভবন, কোনো আবাসিক ফ্ল্যাট নয়। বন্ধ পান সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন নম্বরও। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অফিসের সহায়তায় সাময়িক থাকার ব্যবস্থা করতে হয় তাকে।

জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরান হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, নতুন যারা জার্মানিতে আসছেন তারা এমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। জার্মানিতে বাসা পাওয়া এখন সোনার হরিণ। এ সুযোগটাই এখন প্রতারক চক্র কাজে লাগাচ্ছে। প্রতারণা থেকে বাচতে সবারই উচিত বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা না পাঠানো। জার্মানিতে এসে বা জার্মানিতে থাকেন এমন কারো মাধ্যমে টাকা পাঠালে প্রতারণা শিকার হতে হবে না।

জার্মানির বার্লিনের সাংস্কৃতিক সংগঠক জাহিদ কবির হিমন বাংলানিউজকে বলেন , সম্প্রতি হ্যানোভারে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়িভাড়া নিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। আমার বন্ধু বেলজিয়ামে বাড়ি ভাড়া নেবেন। বাড়ির মালিক বলেছেন তিনি ব্যক্তিগত কাজে আয়ারল্যান্ডে আছেন, এজন্য তার আয়ারল্যান্ডের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অগ্রিম টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে বাসার চাবিও পাঠিয়ে দেবেন। চাবি পাঠিয়েছিল ঠিকই কিন্তু সেটা ছিল ভুয়া চাবি। এজন্য বাংলাদেশ থেকে যারা আসছেন সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, তারা যেন অন্য কোনো দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না পাঠান। চকচমে বাড়ি ও রুম দেখলেই হবে না, প্রতারকরা ভালো লোকেশনে কম টাকার অফার দিয়ে মানুষ ঠকিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশি বন্ধু-বান্ধব বা একদম পরিচিতজন ছাড়া টাকা লেনদেন না করা উচিত।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর