জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ AM

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২/০৯/২০২৬ ০৯:৪৬:০৯ AM

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা করে প্রধানমন্ত্রীকে নিউইয়র্কের হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে নেওয়া হয়। সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই হোটেলেই তাঁর অবস্থান করার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে হোটেলের সামনে জড়ো হন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও অনেকে সেখানে আসেন। তাঁদের হাতে ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি-সংবলিত ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার একটি সুযোগ। এটি তাঁদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

জাতিসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি

২২ সেপ্টেম্বর

সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের জন্য স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন তিনি।

এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তাঁর।

এ ছাড়া মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

২৩ সেপ্টেম্বর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

এদিন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনাতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের সূচিতেও ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ারও কথা রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ২৪ সেপ্টেম্বর। এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের নির্ধারিত কর্মসূচিতেও ওই দিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের সভার কথা রয়েছে।

একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তাঁর। মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও প্রারম্ভিক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরসূচিতে ভাষণের জন্য প্রায় ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রয়েছে। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

২৫ সেপ্টেম্বর

সকালে জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সফরের শেষ দিনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর