২৭ বছরেও বদলায়নি দিরাই পৌরবাসীর নাগরিক দুর্ভোগ
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ AM

২৭ বছরেও বদলায়নি দিরাই পৌরবাসীর নাগরিক দুর্ভোগ

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭/০৯/২০২৬ ০৯:৪৭:১০ AM

২৭ বছরেও বদলায়নি দিরাই পৌরবাসীর নাগরিক দুর্ভোগ


আন্দোলনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৯৯ সালে দিরাইবাসীর হাতে এসেছিল বহু প্রতীক্ষার স্বপ্ন পৌরসভা। ৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করা সেই পৌরসভার বয়স এখন ২৭ বছর। সময়ের স্রোতে পৌরসভা পুরোনো হলেও নাগরিক দুর্ভোগ যেন পুরোনোই রয়ে গেছে। অধিকাংশ সড়কের বেহাল দশা, অপ্রতুল ও অকার্যকর ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, যানজট আর সড়কবাতির সংকটে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

উন্নয়ন ও আধুনিক নাগরিক সুবিধার প্রত্যাশায় পৌরসভা পেলেও দীর্ঘ সময়ে সেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষায়, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পরও পরিকল্পিত নগরায়ণ ও টেকসই নাগরিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে দিরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভার উদ্বোধন করেন।

কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর প্রায় তিন দশকের পথে হাঁটলেও শহরের সড়কব্যবস্থা এখনও অনেকটা ভঙ্গুর। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের অধিকাংশ সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জমে যায় পানি, তৈরি হয় জলাবদ্ধতা।

বিশেষ করে নাছির উদ্দীন রোড, কলেজ রোড (আংশিক), মজলিশপুর, হারানপুর ও দোওজ আবাসিক এলাকার সড়কে বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ বাড়ে। রাধানগর-শুকুরনগর সড়ক, দোওজ এবং উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে উলুকান্দি পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

পৌরবাসীর অভিযোগ, অনেক গ্রামের সড়কের অবস্থাও এখন দিরাই পৌরসভার সড়কের চেয়ে ভালো। কোথাও খানাখন্দ, কোথাও ভাঙাচোরা পথ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সড়কের পাশাপাশি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নের মুখে। পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যেতে পারে না। ফলে বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

সন্ধ্যা নামলে সমস্যার আরেক চিত্র সামনে আসে। পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় শহরের বিভিন্ন সড়ক অন্ধকারে ডুবে যায়। স্থানীয়দের ভাষায়, সন্ধ্যার পর অনেক সড়কে ‘ভূতুড়ে’ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এতে পথচারীদের চলাচলে যেমন সমস্যা হয়, তেমনি বাড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যানজট ও ফুটপাত দখলের সমস্যা। দিরাই বাজার ব্রিজ থেকে কলেজ রোড হয়ে বাসস্টেশন পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দিনের বিভিন্ন সময়ে যানজট লেগেই থাকে। সড়কের ওপর ও ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান বসানোয় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ব্যস্ততম এই সড়কে এতে স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

পৌরবাসীর আরও অভিযোগ, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও সেই তুলনায় নাগরিক সেবা মিলছে না। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতারা দিরাইয়ের উন্নয়ন ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা জমেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

দিরাই পৌরবাসীর দাবি, বিচ্ছিন্নভাবে একেকটি সড়ক মেরামত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পুরো শহরের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টেকসই সড়ক, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিরসন এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

তবে পৌর প্রশাসন বলছে, অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েই এগোচ্ছে পৌরসভা।

দিরাই পৌর প্রশাসক সঞ্জীব সরকার বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নাছির উদ্দীন রোড মেরামত করা হয়েছে। দিরাই বাজার ড্রেন, কুসুমবাগ আবাসিক এলাকার ড্রেনের কাজসহ সড়ক মেরামত ও ড্রেন নির্মাণের কাজ সমাপ্তির পথে।

তিনি বলেন, অচিরেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতসহ যাবতীয় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর