মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

প্রতিদিন ত্বকে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করলে কী হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩/১০/২০২৬ ০৯:৩৩:০১ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিন ত্বকে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করলে কী হয়?


ত্বক নরম ও উজ্জ্বল করতে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে রাইস ওয়াটারের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। চাল ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে পাওয়া শ্বেতসারযুক্ত এই পানি এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যচর্চার একটি পরিচিত উপাদান। অনেকে মুখ পরিষ্কারের পর টোনার হিসেবে কিংবা ফেস মাস্ক তৈরিতে এটি ব্যবহার করেন।

তবে প্রতিদিন রাইস ওয়াটার ব্যবহার করলেই কি ত্বকের উন্নতি হয়? এতে ত্বকের যত্নে সহায়ক কিছু উপাদান থাকতে পারে। কিন্তু ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, আর্দ্রতা ধরে রাখে বা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের গঠন উন্নত করে এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সীমিত। এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে তৈরির পদ্ধতি, ব্যবহারের সময়কাল এবং ত্বকের ধরনের ওপর।

রাইস ওয়াটার কী, ত্বকে কেন ব্যবহার করা হয়?

চাল ধোয়া, পানিতে ভিজিয়ে রাখা বা সেদ্ধ করার পর যে শ্বেতসারযুক্ত তরল পাওয়া যায়, সেটিই রাইস ওয়াটার। প্রস্তুতপ্রণালী অনুযায়ী এতে অল্প পরিমাণে শ্বেতসার, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকতে পারে।

জার্নাল অব কসমেটিক ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় চাল থেকে পাওয়া উপাদানের ত্বকের যত্নে সম্ভাব্য উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের উপাদান কিছু প্রসাধনী পণ্যে ব্যবহার করা হয়, কারণ এগুলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষাস্তর শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে।

তবে ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটার আর চালের নির্যাস দিয়ে তৈরি প্রসাধনী এক নয়। দুটির উপাদান ও ঘনত্বে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে গবেষণাগারে পরীক্ষা করা কোনো পণ্যের উপকারিতা সরাসরি ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যায় না।

প্রতিদিন রাইস ওয়াটার ব্যবহার করলে কী হতে পারে?

ত্বক সাময়িকভাবে নরম হতে পারে

রাইস ওয়াটারে থাকা শ্বেতসার ত্বকের ওপর হালকা একটি আস্তরণ তৈরি করতে পারে। এতে ত্বক সাময়িকভাবে মসৃণ ও নরম মনে হতে পারে। তবে এমন অনুভূতি থেকে ত্বকের আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা বেশি নির্ভরযোগ্য উপায়।

ত্বকের নিষ্প্রভ ভাব কিছুটা কম মনে হতে পারে

ত্বক মসৃণ ও আর্দ্র দেখালে মুখের চেহারায় সাময়িক সতেজতা আসতে পারে। এ কারণে রাইস ওয়াটারকে অনেক সময় প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ানোর উপাদান হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটার নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা দীর্ঘস্থায়ীভাবে বাড়ে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। এটি ত্বকের স্বাভাবিক রং বদলে দেবে, এমন প্রত্যাশাও করা উচিত নয়।

ত্বকের সুরক্ষাস্তরে সহায়তা করতে পারে

ত্বকের সুরক্ষাস্তর আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বাইরের বিভিন্ন উত্তেজক উপাদান থেকে ত্বককে রক্ষা করে। কসমেটিকস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, চাল থেকে পাওয়া কিছু উপাদানের আর্দ্রতা ধরে রাখা ও ত্বকের সুরক্ষাস্তর শক্তিশালী করার সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রাইস ওয়াটার ত্বকে আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে। তবে লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ কমাতে এটি কতটা কার্যকর, তা এখনও যথেষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই ত্বকের সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে একে নির্ভরযোগ্য সমাধান মনে করা ঠিক নয়।

কীভাবে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করবেন?

ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। সাধারণভাবে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

১. পরিষ্কার চাল নিয়ে বিশুদ্ধ পানিতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।

২. পরিষ্কার পাত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে চাল থেকে পানি আলাদা করুন।

৩. মুখ পরিষ্কারের পর পরিষ্কার হাত বা কটন প্যাড দিয়ে অল্প পরিমাণ রাইস ওয়াটার ত্বকে লাগান। চোখের আশপাশ এড়িয়ে চলুন।

৪. ত্বক চটচটে লাগলে বা অস্বস্তি হলে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫. এরপর ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

দিনের বেলায় ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

সব মিলিয়ে, রাইস ওয়াটার ত্বকের যত্নে একটি সহজ ঘরোয়া উপাদান হতে পারে। তবে এর উপকারিতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ত্বকের ধরন বুঝে এটি ব্যবহার করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর