রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় নিজস্ব ঐতিহ্য চর্চার আহ্বান রিজভীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/১০/২০২৬ ০৯:৫৭:১৬ পূর্বাহ্ন

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় নিজস্ব ঐতিহ্য চর্চার আহ্বান রিজভীর


সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জাতির স্বকীয়তা দুর্বল করার চেষ্টা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এ ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় তরুণদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে মরমি সাধক লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ওপর বিভিন্নভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রচেষ্টা চলবে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সুরক্ষার ভিত্তি হলো নিজস্ব সংস্কৃতির গভীরতা অনুধাবন, চর্চা ও অনুশীলন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ১৬-১৭ বছরে দেশকে একমুখী করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, ওই সময়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে এবং স্বাধীনতার কথা বলে অন্য দেশের অধীনতা মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে তরুণেরা এসব বিষয় বুঝতে পেরেছেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার কথা বলা হলেও কার্যত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশের সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমা অবাধে প্রদর্শনের উদ্যোগকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, একটি জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য তার সার্বভৌমত্ব; সেটিকে দুর্বল করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদী চেতনা ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে চিন্তার যে বিকাশ ঘটেছে, জুলাই আন্দোলনে তার প্রকাশ দেখা গেছে। নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠলে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অমানবিক শাসনের পতন ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, লালন শাহ ও মুকুন্দরামসহ বাংলার লোককবিদের চিন্তায় মানবতাবাদী দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। সহজ ভাষায় তাঁদের দর্শনে মানুষের মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও মানবিকতার কথা উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতেও এ ধারার প্রভাব দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, লালনের গান ও বাউল সুর বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও বাউল সুরের প্রভাব রয়েছে। এ কারণে সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতীয় চেতনায় মানবতাবাদী দর্শনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর