রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

‘অন্যায়-অত্যাচার ও নিপীড়ন পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন’: রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/১০/২০২৬ ০৫:০৫:০৮ অপরাহ্ন

‘অন্যায়-অত্যাচার ও নিপীড়ন পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন’: রাষ্ট্রপতি


অন্যায়-অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য কোথাও আছে বলে তাঁর জানা নেই। বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করছেন। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা তাঁদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। বাংলাদেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে, আর এ দেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এ অপকর্ম হয়েছিল। পরে ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে মন্দিরটি পুনঃস্থাপিত হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রায়ই অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। এ সময় মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর