শীতকাল শুরু না হলেও অনেকের ঠোঁটে দেখা দিচ্ছে শুষ্কতা, ফাটল ও চামড়া ওঠার সমস্যা। সাধারণভাবে ঠোঁট ফাটাকে শীতের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করা হলেও, আবহাওয়ার পরিবর্তন, শরীরে পানির ঘাটতি এবং প্রসাধনীর প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানান চিকিৎসকেরা।
ঠোঁট কেন সহজে ফেটে যায়?
মুখের অন্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক পাতলা। পাশাপাশি এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি না থাকায় ঠোঁট সহজেই স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। এর ফলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফাটল দেখা দিতে পারে।
শীতের আগেই ঠোঁট ফাটার কারণ
আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে এবং শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শে এলে ঠোঁট দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। তাই শীত আসার আগেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো: শুকনো ঠোঁট ভেজাতে অনেকেই বারবার জিভ ব্যবহার করেন। কিন্তু লালা শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে।
পানির ঘাটতি ও প্রসাধনীর প্রতিক্রিয়া: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব ঠোঁট ফাটার একটি কারণ হতে পারে। এ ছাড়া সুগন্ধিযুক্ত লিপস্টিক, টুথপেস্ট কিংবা লিপবামের কিছু রাসায়নিক উপাদান ঠোঁটে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
পুষ্টির ঘাটতি ও সংক্রমণ: শরীরে আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলেও ঠোঁটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি একজিমা বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের কারণে ঠোঁটের কোণে ক্ষত ও ফাটল হতে পারে।
ঠোঁট ফাটা প্রতিরোধে যা করবেন
ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুগন্ধি ও স্বাদবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা উপযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলা জরুরি।
- বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো থেকে বিরত থাকুন।
- ঠোঁটের মরা চামড়া টেনে তুলবেন না।
- শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- রোদে বের হলে এসপিএফ ৩০ যুক্ত লিপবাম ব্যবহার করুন।
- মেনথল বা কর্পূরযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলুন। এসব উপাদান ঠোঁটে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে।
ঠোঁটের যত্ন নিতে শীত আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। এখন থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা ও উপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের মাধ্যমে ঠোঁটের শুষ্কতা কমানো এবং কোমলতা বজায় রাখা সম্ভব।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








