শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

শাল্লায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর আগে ফেসবুকে রহস্যময় পোস্ট

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/১০/২০২৬ ০৭:০৯:০০ অপরাহ্ন

শাল্লায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর আগে ফেসবুকে রহস্যময় পোস্ট


সুনামগঞ্জের শাল্লায় ফেসবুকে ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’ ক্যাপশনে এক যুবকের সঙ্গে একাধিক যৌথ ছবি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর প্লাবন সরকার নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্লাবন ওই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে প্লাবন নিজের ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে তোলা কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিগুলোর ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত্যুর খবর পেয়ে হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম প্লাবনের বাড়িতে যান। তাঁরা ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তাঁর মরদেহ নামিয়ে খাটের ওপর রাখেন। পরে মামুদনগর বাজার থেকে পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ দাসকে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক প্লাবনকে মৃত ঘোষণা করার পর ওই দুই ব্যক্তি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ দাস জানান, হাবিবুর, মঈনুল ও প্লাবন তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী এবং তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল তাঁকে প্লাবনদের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যান।

প্রদীপ দাস বলেন, বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁকে গাড়ির কাছে রেখে ওই দুজন ঘরের পেছনে যান। তিনি তাঁদের সামনে আসতে বললেও তাঁরা পেছনের দরজায় লাথি মেরে ভেঙে ঘরে ঢোকেন। পরে তিনি গিয়ে দেখেন, প্লাবনের মরদেহ খাটের ওপর রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এরপর তাঁকে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র আনতে বলা হয়। যন্ত্র নিয়ে ফিরে প্লাবনের রক্তচাপ মেপে তিনি কোনো সাড়া পাননি। এ কথা জানানোর পরই হাবিবুর ও মঈনুল প্লাবনের মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে মঈনুল ইসলামের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, প্লাবনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই জড়িত থাকলে তাঁরও শাস্তি হওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে এমন একটি সম্পর্ক ছিল, যা প্রকাশ্যে বলার মতো নয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়াবিবাদও হয়েছে বলে তিনি জানান। বাজারের লোকজন এ নিয়ে নানা কথা বলতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর পেছনের কারণ এবং এটি আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা নাকি হত্যাকাণ্ড সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর