শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি দ্বিগুণ করছে ফিফা, তবু পিছিয়ে পুরুষদের চেয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১/১০/২০২৬ ১০:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন

নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি দ্বিগুণ করছে ফিফা, তবু পিছিয়ে পুরুষদের চেয়ে


নারী ফুটবলে আর্থিক বৈষম্য কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বড় অঙ্কের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ফিফা। ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় নারী বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি বাড়িয়ে ২২ কোটি ডলার করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের আসরের তুলনায় এই অর্থ প্রায় দ্বিগুণ হলেও পুরুষদের বিশ্বকাপের প্রাইজমানির সঙ্গে ব্যবধান থেকেই যাচ্ছে।

২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ১০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। আগামী ব্রাজিল বিশ্বকাপে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২২ কোটি ডলারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত সবশেষ পুরুষ বিশ্বকাপের দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তুলনায় নারী বিশ্বকাপের এই অর্থ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

সবশেষ ৪৮ দলের পুরুষ বিশ্বকাপ শেষে ফিফা ১৫০ কোটি ডলারের রেকর্ড আয়ের কথা জানিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান ও স্কাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাইজমানি বাড়ানোর পরও নারী বিশ্বকাপের অর্থ পুরুষদের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘোষিত লিঙ্গসমতার লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের আগে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেক সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান মনে করেছিল, পুরুষ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনলেই নারী বিশ্বকাপের স্বত্বও পাওয়া যাবে। সে সময় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ইনফান্তিনো।

তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের পুরুষ এবং ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে প্রাইজমানির ক্ষেত্রে সমতা আনাই ফিফার লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই লক্ষ্য ফিফা নিজেরাই নির্ধারণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নে শুধু কথায় নয়, কাজেও এগোচ্ছে। তবে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ও স্পন্সরদেরও আরও বেশি ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

তবে টুর্নামেন্টের আগে ইনফান্তিনোর সেই বক্তব্য বাণিজ্যিক মহলে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং অনেক সমালোচক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক নারী ফুটবনে ফিফার বিনিয়োগের তুলনায় অনেক দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ নারী ফুটবনে বেশি অর্থ ব্যয় করছে।

তবে প্রস্তুতিমূলক অর্থের ক্ষেত্রে সমতার দিকে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে ফিফা। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে প্রতিটি দল পুরুষ বিশ্বকাপের সমপরিমাণ প্রস্তুতিমূলক অর্থ পাবে। এ খাতে দলপ্রতি বরাদ্দ দ্বিগুণ করে ২৫ লাখ ডলার করা হচ্ছে।

প্রাইজমানি বাড়ানো ও প্রস্তুতিমূলক অর্থে সমতার উদ্যোগ নারী ফুটবলের আর্থিক কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের মোট অর্থ বরাদ্দের ব্যবধান এখনো বড়।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর