দীর্ঘ নয় মাস পলাতক থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেটের চৌকিদেখী এলাকার বাসিন্দা বুরহান উদ্দিন শফি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আব্দুল মুহিত মায়েদ। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলার তিন আসামিই গ্রেপ্তার হলেন। এখন স্বজনদের প্রত্যাশা, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
আব্দুল মুহিত মায়েদ সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার গঙ্গাজল গ্রামের মো. আব্দুছ ছাত্তারের ছেলে। গত ৩ নভেম্বর জকিগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা যায়, বুরহান উদ্দিন শফি প্রায় ৪০ বছর ধরে সপরিবারে লন্ডনে বসবাস করতেন। গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে সিলেট নগরীর চৌকিদেখী ১ নম্বর গলিতে নিজের বাসায় ওঠেন তিনি। ৩০ জানুয়ারি কুলাউড়া যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন শফি।
এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বোন শাহ আছমা জাহান। নিখোঁজের চার দিন পর চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের একটি হাওর থেকে বুরহান উদ্দিন শফির (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় জকিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর বোন শাহ আছমা জাহান।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন পর, গত ২০ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভন এবং দ্বিতীয় আসামি মো. সাব্বির আহমদকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শোভন ওসমানীনগর থানার ওসমানপুর ইউনিয়নের উছমানপুর গ্রামের সৈয়দ মহিবুর ছামাদ ওরফে শাহীনের ছেলে। অপর আসামি সাব্বির জকিগঞ্জ উপজেলার ইলাবাজ গ্রামের আব্দুস সামাদ দুলনের ছেলে।
সবশেষ মামলার তৃতীয় আসামি আব্দুল মুহিত মায়েদ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলার তিন আসামিই গ্রেপ্তার হলেন।
নিহত বুরহান উদ্দিন শফির বোন ও মামলার বাদী শাহ আছমা জাহান বলেন, এবার তাঁরা রাষ্ট্রের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামির সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন। তিনি বলেন, ‘ভাইকে হয়তো আমরা আর ফিরে পাবো না, তবে আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হলে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা শান্তি পাবেন।’
আজকের সিলেট/ জেকেএস









