রাত পোহালেই কোরবানির ঈদ। অথচ শনিবার পর্যন্ত অনেকেরই কোরবানির পশু কেনা হয়নি। সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ৮টির বদলে নগরীর পথেঘাটে বসেছে অন্তত ৮০টি অবৈধ পশুর হাট। হাটের সংখ্যা বাড়লেও কমেনি পশুর দাম। তবে বাজারে পর্যাপ্ত পশু উঠেছে এবার। তুলনামূলকভাবে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। পিছিয়ে নেই ছাগল ও ভেড়া। হাটে দেশি গরু বেশি থাকলেও বিক্ষিপ্তভাবে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় গরু।
বাজার গুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এবার দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে। বাজারে বড় গরুর দাম ১ লাখ টাকার উপরে। ছোট গরু সর্বনিম্ন বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়। ছাগলও ১০ হাজার টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। মাঝারি আকারের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, হাটে মাঝারি ও ছোট আকারের গরু সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতার অভিমত, দাম চড়া তাই এখনো কোরবানির পশু কেনা হয়নি।
নগরীর কাজিরবাজার হাটে কথা হয় ক্রেতা মুজিব খানের সঙ্গে। তিনি জানান, গরুর দাম খুব বেশি। তাই শেষ রাত পর্যন্ত দেখব। আরেক ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী বদরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই বাজারমূল্য বাড়ার খবর পাই, কিন্তু বেতন বাড়ার খবর শুনি না কয়েক বছর হলো। কম দামে পেলে ছোট গরু কিনব, নতুবা ছাগলই ভরসা।
শনিবার বাজারে গিয়ে দেখা গেল, নগরীর কানিশাইল, সুবিদবাজার, মীরের চক, মুরাদপুর, দক্ষিণ সুরমা, পাঠানটুলাসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে বসেছে অবৈধ পশুর হাট।
টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন খালি জায়গায় অস্থায়ী হাটের ইজারা দিলেও এমসি কলেজ গেইট ছাড়িয়ে সরকারি কলেজ গেইট পর্যন্ত চলে গেছে পশুর হাট। শিবগঞ্জ থেকে মেজরটিলা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে শুধু গরু আর গরু। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। এতে এই রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণ পড়েছেন বিপাকে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, অবৈধ হাটের খবর পেলেই সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছেদ করছে পুলিশ। তবে সরিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার ব্যাপারীরা গরু নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে। পুলিশ মাঠে রয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ৮টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব হাটের তালিকা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে হাট বসলে পুলিশ দেখবে।
আজকের সিলেট/ডি/এপি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








