ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে ২৭ লাখ টাকা লিবিয়ায় নির্যাতন, দেড় মাস ধরে নিখোঁজ তরুণ
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ PM

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে ২৭ লাখ টাকা লিবিয়ায় নির্যাতন, দেড় মাস ধরে নিখোঁজ তরুণ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪/০৫/২০২৬ ০৬:৩৫:৫৯ PM

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে ২৭ লাখ টাকা লিবিয়ায় নির্যাতন, দেড় মাস ধরে নিখোঁজ তরুণ

ছবি : সংগৃহীত


ইতালি যেতে মানবপাচারকারী চক্রকে ২৭ লাখ টাকা দিয়ে এখন লিবিয়ায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের রায়হান চৌধুরী। নিখোঁজ রায়হানকে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

এ ঘটনায় নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে নজরুল ইসলামকে (৩০) রোববার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই গ্রামের আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে নিখোঁজ রায়হান।

মামলায় বলা হয়, পূর্বপরিচিত শামীম আহমেদ ও রাগিব মিয়া নামে দুইজন ইতালি পাঠানোর কথা বলে রায়হানের পাসপোর্ট ও দুই লাখ টাকা নেন। পরে শামীমের বাবা নজরুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা রায়হানের বাড়িতে গিয়ে ভিসা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আরও ১০ লাখ টাকা নেন।

পরবর্তীতে রায়হানকে সৌদি আরব ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি।

এমনকি দেশে ফিরতেও টাকা লাগবে জানিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে পরিবার জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে আরও ১৫ লাখ টাকা দেয়। এভাবে মোট ২৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপরও চক্রটি অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে সম্প্রতি আবু তাহের চৌধুরী মানবপাচার আইনে নবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তবে মামলা করার পর থেকেই রায়হানের কোনো খোঁজ মিলছে না।

আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমার ছেলেকে মারধর করে ভিডিও কলে দেখানো হতো। আঙুল কেটে দিয়েছে, এখন তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। আল্লাহ জানেন, সে কোথায় ও কেমন আছে।

এদিকে মামলার আসামি নজরুল ইসলাম রোববার হবিগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদী আবু তাহের চৌধুরী অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আমার ছেলেকে নির্যাতন করে ভিডিওকলে দেখানো হয়েছে। তার একটি আঙুল কেটে দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে কবজি কেটে ফেলার হুমকি দেয়। এখন ৪২ দিন ধরে তিনি নিখোঁজ।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মোনায়েম মিয়া বলেন, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এখন বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করছে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর