সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, সুরমা পয়েন্ট ও ক্বীন ব্রিজ এলাকার নিচে চলছে স্কর্ট সার্ভিস ও ব্ল্যাকমেইলের ভয়ংকর বাণিজ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে মধ্যে অভিযান থাকলেও দালাল চক্রের প্রভাব ও টাকার খেলা এই অসামাজিক ব্যবসাকে টিকিয়ে রেখেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব দালাল চক্র বোরকা পরিহিত নারী যৌনকর্মীদের মাধ্যমে উঠতি বয়সী ছেলেদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে। কথার ছলে পরিচিত হয়ে তাদের হোটেল কিংবা ভাড়া করা রুমে নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নেওয়া হয় টাকা ও মোবাইল ফোন।
বেশ কয়েকজন দোকানদার ও পথচারী অভিযোগ করে বলেন, প্রায়ই দেখা যায়, রাস্তায় তরুণদের আটকিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। আমরা মা-বোন নিয়ে এই পথে চলতে ভয় পাই। এটা সিলেটের জন্য লজ্জাজনক একটি চিত্র।
এমনকি সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান—কোর্ট ভবন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আশপাশেও এই অসামাজিক বাণিজ্য গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবারও একই দৃশ্য চোখে পড়ে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট শহরের বিভিন্ন হোটেলে ঘণ্টা প্রতি ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা ভাড়ায় রুম নিয়ে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকা পরিচয়ে রুম নেওয়া হয়, আসলে সেগুলো ব্যবহৃত হয় স্কর্ট সার্ভিস ও দালালি কাজে।
তবে এর মাঝেও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েকটি হোটেল সিলগালা করা হয়েছে।
তবে এসব কিছুর পর স্বস্তির খবর হচ্ছে সিলেটের হোটেলে অবৈধ কার্যকলাপের জন্য কয়েকটি হোটেলকে ইতিমধ্যে সিলগালা করেছে প্রশাসন এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ এসব ব্যাপারে কোন ছাড় দিতে নারাজ এবং জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম ক্বীন ব্রীজের নিচে সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সিলেট শহর আবারও তার পুরনো ভাবমূর্তি ফিরে পাবে—একটি নিরাপদ ও মর্যাদাবান শহর হিসেবে।
আজকের সিলেট/এপি
মো: ফারুক মিয়া 








