আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেপরোয় 'ফারুক সিন্ডিকেট'
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৯:১৮ AM

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম-দুর্নীতি ২

আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেপরোয় 'ফারুক সিন্ডিকেট'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫/১১/২০২৫ ১০:৪৩:২৮ AM

আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেপরোয় 'ফারুক সিন্ডিকেট'


সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম ও দুর্নীতি এখন অনেকটাই অপেন সিক্রেট। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ফ্যাসিবাদের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্সে অবস্থান নিলেও সিসিকের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো বেপরোয়া রয়েছেন। সিসিকের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আজ থাকছে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব।

সিসিকের পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী ফারুক আহমদের দুর্নীতি নিয়ে গত পর্বে আমরা প্রাথমিক ধারনা দিয়েছিলাম। গত ৪ নভেম্বর 'পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী ফারুকের আলাদিনের চেরাগ!' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নগর ভবনজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ দেয়া শুরু করেন ভুক্তভোগীরা।

ফারুক আহমদ নিজের আত্মীয়স্বজন নিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই ফারুক সিন্ডিকেটের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যরা হলেন- ড্রাইভার সাদিক, মামুন, মাসুক, শাআলম, নাইম ও ফেরদৌস। এরা ফারুক সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার কারনে সিসিকের বর্জ শাখার ভালো মানের গাড়িগুলি তাদেরকে দেয়া হয়, আর অন্যদেরকে দেয়া হয় তুলনামূলক নিম্নমানের গাড়ি। এই চক্রটি সিসিকের গাড়ি দিয়ে তার বিভিন্ন এলাকা মাটি বিক্রির ব্যবসাও সক্রিয় রয়েছে। এছাড়াও এই চক্রটি  প্রতিদিন গাড়ির তেল চুরি করে বাহিরে বিক্রি করে। এরা সবাই এক সময় হেল্পার ছিল, কিন্তু ফারুকের আলাদিনের প্রদীপের ছুয়ায় তারা হেল্পার থেকে ড্রাইভার বনে যায়। হেল্পার থেকে ড্রাইভার হওয়ার ফলশ্রুতিতে এই চক্রের সদস্যরা নিয়মিতই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটনায়। তবে ফারুকের আশীর্বাদে কখনোই শাস্তির মুখোমুখি হয়ে হয়নি তাদের।

এই চক্রের মধ্যে সব চেয়ে বেপরোয়া ফারুকের শ্যালক সাদিক। পরিচ্ছন্ন শাখা কর্মচারি হলেও হাকিয়ে বেড়ান আরওয়ান-৫ মোটরবাইক। প্রায় নিয়মিতই ঘুরতে যান বিদেশে। অভিযোগ রয়েছে সিসিক থেকে ফারুকের অবৈধভাবে উপার্জিত এই অর্থ ইউরোপে পাচার করতেই শ্যালক সাদিককে নিয়মিত বিদেশ ট্যুর করে পাসপোর্ট ভারি করাচ্ছেন। খুব সহসাই সাদিকে ইউরোপে স্যাটেল্ড করে সেখানে অর্থপাচারের পায়তারা শুরু করেছেন ফারুক।

ফারুকের এসব অপকর্ম এখন নগর ভবনের প্রত্যেক মুখে মুখে। তবে তার চক্রের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না। ফারুককে টাকা দিয়ে চাকুরী নেয়া একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থায়ী চাকুরির সুযোগ দেয়ার নাম করে আমাদের কাছে থেকে টাকা নেয়া হয়েছিল। কিন্ত আজ এতো বছরেও আমরা স্থায়ী হতে পারিনি। এসব বিষয় নিয়ে ফারুকের সাথে কথা বললে তিনি আমাদেরকে হুমকি ধমকি দেন। ২০২৪ সালে চাকুরী স্থায়ী করার দাবি নিয়ে আমরা তার সাথে একাধিকবার বসে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি তৎক্ষালীন মেয়র (বর্তমানে পলাতক) আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর কথা বলে ভয় দেখাতেন। আর গণঅভ্যুত্থানে আনোয়ার পালিয়ে যাওয়ার পর এখন তিনি নিজেকে জামায়াত ও বিএনপির ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচয় দেয়া শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে আমরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সিসিকে চাকুরীর বদৌলতে সম্পদের পাহাড় গড়লেও ধরা পড়ার ভয়ে এখন পর্যন্ত সরকারকে কোন আয়কর দেননি তিনি, দেননি টেক্সের রিটার্নও। তাই তিনি চলতি অর্থবছরে আয়কর ও রিটার্ন জমা দিয়ে নিজের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সকল সম্পদকে বৈধ করার চেষ্টা করছেন। এছাড়াও তার অধিকাংশ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি শ্বশুড়বাড়ির দিকে আত্নীয়স্বজনের নামে করেছেন বলে শুনা যাচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে অভিযুক্ত ফারুক আহমদের বক্তব্য নেয়ার তার ব্যবহুত মোবাইল ফোনে বার বার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে অপর অভিযুক্ত ফারুক আহমদের শ্যালক সাদিক আহমদ তার বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাইবোন সবাই চাকুরী করেন। আরওয়ান-৫ কেনা, বিদেশ ট্যুর সহ যা করেছি সব আমার পরিবারের টাকায় করেছি।

আরো পড়ুন :
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম-দুর্নীতি- ১
পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী ফারুকের আলাদিনের চেরাগ!

আজকের সিলেট/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর