দিন শেষে ক্লান্ত শরীর যখন বিছানার নরম পরশে আশ্রয় খোঁজে, তখন খুব কম মানুষই ভাবেন-ঘুমও হতে পারে সৌন্দর্যের বন্ধু, আবার শত্রুও। অনেকেই নিয়মিত দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন, ত্বকের যত্নে নানা উপায় অনুসরণ করেন।
অথচ প্রতিদিনের একটি সাধারণ অভ্যাসই নীরবে ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলে দিতে পারে।
ঘুমানোর ভঙ্গি
বয়স কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় বাড়ে না, তার ছাপ ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে ত্বকেও। তবে বলিরেখা শুধু বয়সের কারণেই আসে-এ ধারণা পুরোপুরি সত্য নয়। জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি-এসবের পাশাপাশি ঘুমানোর ধরনও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বালিশই কি হয়ে উঠছে বলিরেখার কারণ?
অনেকেরই অভ্যাস পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে ঘুমানো। এতে হয়তো আরাম লাগে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে মুখে একই জায়গায় চাপ পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই চাপের ফলে যে ভাঁজ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ‘স্লিপ রিঙ্কল’ বা ঘুমজনিত বলিরেখা।
অল্প বয়সে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে এমন দাগ দেখা গেলেও কিছু সময়ের মধ্যেই তা মিলিয়ে যায়। কারণ তখন ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ বেশি থাকে, যা ত্বককে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
কিন্তু বয়স ত্রিশ পেরোলে কোলাজেন উৎপাদন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তখন একই ভঙ্গিতে বছরের পর বছর ঘুমানোর ফলে সেই সাময়িক দাগই একসময় স্থায়ী বলিরেখায় পরিণত হতে পারে।
চিকিৎসকরা যা বলছেন
চিকিৎসদের মতে, শুধু শোয়ার অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই ত্বকের অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
অধিকাংশ মানুষ একদিকে কাত হয়ে মুখ বালিশে চেপে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। এতে মুখের একাংশে দীর্ঘ সময় ধরে চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে ত্বকের স্থায়ী ভাঁজের কারণ হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, মুখ বালিশে চেপে না রেখে মাথা ঠিকভাবে বালিশে রেখে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে মুখে অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়বে না।
সকালের ফোলা মুখ এড়ানোর সহজ উপায়
অনেকেই ঘুম থেকে উঠে মুখে ফোলাভাব লক্ষ্য করেন। চিকিৎসকের মতে, একটু উঁচু বালিশ ব্যবহার করলে এই সমস্যাও অনেকটাই কমে যেতে পারে।
তবে বালিশ যেন খুব বেশি উঁচু না হয়। এতে ঘাড়ে ব্যথা বা মেরুদণ্ডে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই আরামদায়ক ও সঠিক উচ্চতার বালিশ নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে আরও যা করবেন
শুধু শোয়ার ভঙ্গি বদলালেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। ত্বক ভালো রাখতে প্রয়োজন কয়েকটি সহজ অভ্যাস—
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।
- খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।
- বাইরে বের হলে রোদ থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখুন।
- ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সৌন্দর্যের শুরু হোক ঘুম থেকে
সৌন্দর্য ধরে রাখতে সব সময় ব্যয়বহুল প্রসাধনী বা জটিল পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও ছোট্ট একটি অভ্যাসই বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
আজ রাতে ঘুমানোর আগে একবার ভেবে দেখুন-আপনি কি বালিশে মুখ গুঁজে ঘুমান?
যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আজ থেকেই বদলে ফেলুন সেই অভ্যাস। কারণ প্রতিটি রাত শুধু বিশ্রামের নয়, ত্বকের নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলারও সময়। আর সেই সুযোগটুকু ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হয়তো আরও কিছুদিন ধরে দেখতে পাবেন তারুণ্যের সেই চেনা দীপ্তি।
আজকের সিলেট/বিএন/ডি/এসটি
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








