সুশান্তের ম্যানেজার মৃত্যুর পাঁচ বছর পর সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ PM

সুশান্তের ম্যানেজার মৃত্যুর পাঁচ বছর পর সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/০৯/২০২৬ ১১:২০:৪৪ AM

সুশান্তের ম্যানেজার মৃত্যুর পাঁচ বছর পর সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ


অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রয়াত ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের পথ খুলেছে। মামলাটি তদন্তের জন্য সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই হাইকোর্ট।

২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাড এলাকার একটি বহুতল ভবনের ১৪ তলা থেকে পড়ে মারা যান দিশা। এর কয়েক দিন পর বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সুশান্ত সিং রাজপুতকে। দিশার মৃত্যুর পর মুম্বাই পুলিশ আপমৃত্যুর রিপোর্ট নথিভুক্ত করেছিল।

দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেয়। মেয়ের মৃত্যুর তদন্তে মুম্বাই পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। একই সঙ্গে মুম্বাই পুলিশের কাছে থাকা মামলার সব নথি সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি সারং কোতোয়াল এবং রঞ্জিতসিনহা রাজা ভোসলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছে, তদন্তে উপযুক্ত তথ্য বা প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। অপরাধের প্রমাণ না মিললে সিবিআই সংশ্লিষ্ট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

রায়ের পর আবেদনকারীর আইনজীবী নীলেশ ওঝা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আদালত সতীশের জবানবন্দি রেকর্ড, এফআইআর নথিভুক্ত এবং তদন্তের জন্য একজন সিনিয়র অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মালবানি থানাকে সব প্রতিবেদন সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের কথাও বলা হয়েছে।

নীলেশ ওঝার ভাষ্য, তদন্তে যার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে অকারণে অভিযুক্ত করা হবে না। সিবিআই কোনো নেতিবাচক প্রতিবেদন দিলে সেটির বিরোধিতা করার অধিকারও আবেদনকারীর থাকবে বলে জানান তিনি।

এর আগে আইনজীবী ওঝা অভিযোগ করেছিলেন, দিশার মৃত্যুর ঘটনায় ‘প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এবং সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা’ জড়িত ছিলেন। আদালতে এ বিষয়ে প্রমাণও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তার অভিযোগ ছিল, এসব কারণে তদন্ত প্রভাবিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা এবং সংবিধান বেঞ্চের স্পষ্ট গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও এফআইআর করা হয়নি।

প্রাথমিক তদন্তের পর মুম্বাই পুলিশ দিশার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছিল। তবে গত বছর হাইকোর্টে দেওয়া লিখিত আবেদনে তার বাবা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

মামলার আগের শুনানিতেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপাণ্ডের বেঞ্চ। পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ থাকার পরও কেন আকস্মিক মৃত্যুর রিপোর্ট করা হয়েছিল এবং এফআইআর কেন হয়নি তা জানতে চেয়েছিল আদালত।

এ ছাড়া দিশার মৃত্যুর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং এডিআর-এর কপি কেন তার পরিবারকে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছিল হাইকোর্ট।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর