পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্ধুকে রেঞ্চ দিয়ে হত্যা, বস্তাবন্দী লাশ ফুটপাতে
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ PM

পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্ধুকে রেঞ্চ দিয়ে হত্যা, বস্তাবন্দী লাশ ফুটপাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭/০৯/২০২৬ ১০:৫৬:৪৪ AM

পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্ধুকে রেঞ্চ দিয়ে হত্যা, বস্তাবন্দী লাশ ফুটপাতে


পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভারী সেলাই রেঞ্চ দিয়ে মাথায় আঘাত করে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে লাশ গুম করতে সেটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভ্যানযোগে সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকার ফুটপাতে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ লাইছ আহমেদ। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া এলাকার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

পুলিশ কমিশনার জানান, দক্ষিণ সুরমা থানা সংলগ্ন কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’ ও ‘উদার পরিবহন’ বাস কাউন্টারের সামনের ফুটপাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করার সময় একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। বস্তাটি সরানোর চেষ্টা করলে ভেতর থেকে মানুষের একটি পা বেরিয়ে আসে।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ, ফাড়িঁ পুলিশ এবং পিবিআইর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তার ভেতর থাকা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে।

ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা নেয়। তদন্তে জানা যায়, বিকেলের দিকে একটি ভ্যান গাড়িতে করে বস্তাটি ওই ফুটপাতে এনে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভ্যানচালককে শনাক্ত করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ভ্যানচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার খালপার এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে থাকা দোকান মালিক শামছু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তার মূল বাড়ি হবিগঞ্জে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শামছু মিয়া জানান, নিহত লাইছ আহমেদের কাছে তার পূর্বের পাওনা টাকা ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কয়েকজন বন্ধু মিলে তারা আড্ডা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে লাইছ পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি গালিগালাজ করলে শামছু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর দোকানে থাকা ভারী সেলাই রেঞ্চ দিয়ে লাইছের মাথায় সজোরে আঘাত করেন শামছু মিয়া। এতে ঘটনাস্থলেই লাইছের মৃত্যু হয়।

হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শামছু তার দুই বন্ধু মামুন ও সাজুকে সঙ্গে নেন। পরে তারা তিনজন মিলে লাশটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ঢোকান এবং ভ্যান গাড়িতে করে নির্জন স্থানে ফেলে আসেন বলে পুলিশকে জানান শামছু।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী মামুন ও সাজুকেও গ্রেফতার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, গ্রেফতার তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর