ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পুতিন
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ PM

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৬ ০৮:৫৯:১৪ AM

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পুতিন


ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।

শুক্রবার সকালে নয়াদিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান তিনি।

ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের অধীনে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।

পুতিনের ভারত সফরে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও রয়েছে। দুই নেতার বৈঠকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

মোদি-পুতিন বৈঠকে যেসব বিষয়
রুশ প্রেসিডেন্টের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি হচ্ছে মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। ভারতীয় কোম্পানিগুলোর রাশিয়ায় বিনিয়োগ এবং রুশ বাজারে ভারতীয় ব্যবসার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়ার তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের সু-৫৭ যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের আগ্রহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ব্রহ্মোসসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

পারমাণবিক জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে মস্কো নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী।

রুশ তেল ও বাণিজ্য
ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে রুশ তেলের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বড় একটি অংশে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেন বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে।

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার বিপুলসংখ্যক লেনদেন জাতীয় মুদ্রায় হচ্ছে। ফলে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তঃসীমান্ত লেনদেন সহজ করার বিষয়টি ব্রিকসের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ব্রিকসে ডিজিটাল মুদ্রা সংযোগের প্রস্তাব
এবারের সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হতে পারে ব্রিকস দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার (CBDC) মধ্যে সংযোগ স্থাপন। ভারত এই উদ্যোগের পক্ষে কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন আরও দ্রুত ও সহজ করা।

তবে চীন-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন, সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভারত অবশ্য এটিকে মার্কিন ডলারের বিকল্প কোনো একক মুদ্রা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে।

ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি
মোদি-পুতিন আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়টিও উঠতে পারে। রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভারতের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানায়। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রভাবও আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থায় এর প্রভাব নিয়ে ব্রিকস নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা
পুতিনসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও এবারের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর এটি তার গুরুত্বপূর্ণ ভারত সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে পুতিনের সফরের পাশাপাশি মোদি-শি বৈঠকও সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, পুতিনের তিন দিনের ভারত সফর শুধু ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক জ্বালানি, বাণিজ্য, রুশ তেল, জাতীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং ইউক্রেনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত-রাশিয়ার অবস্থান সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর