গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে পিটুনি, চোখে ঢালা হয় চুনের পানি
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ PM

গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে পিটুনি, চোখে ঢালা হয় চুনের পানি

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৬ ০৩:৩৮:২৩ PM

গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে পিটুনি, চোখে ঢালা হয় চুনের পানি


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় লোকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পালইছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের একপর্যায়ে তাদের চোখে চুনের পানি ঢেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তিনজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে গরু খুঁজতে বের হন তিনি।

ভোর সাড়ে চারটার দিকে বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া গ্রামের জামে মসজিদের সামনে দিয়ে দুটি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় সোনাই মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে দেখে মুসল্লিদের সন্দেহ হয়। পরে তারা তাকে আটক করেন। সোনাইয়ের বাড়ি ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জুরাপানি গ্রামে।

স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে সোনাই গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং জানান, তার সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। তারা হলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউরি গ্রামের আবু বক্কর ওরফে বাক্কার (৩৫) এবং পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৩০)।

এরপর স্থানীয় লোকজন বক্কর ও নিজামকে ধরে মসজিদের সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে আনোয়ার হোসেন গিয়ে গরু দুটি তার বলে শনাক্ত করেন। এরপর তিনজনের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকান থেকে চুন এনে পানিতে মিশিয়ে তাদের চোখে ঢেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন মানুষের উপস্থিতিতে তিনজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। তারা মারধর না করার জন্য অনুরোধ করছিলেন। তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার হাতটা খুইলা একটু পানি দেও। আমি আপনার পায়ে ধরি, একটু পানি খাইতাম।’ পরে তাকে পানি পান করানো হয়।

খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনজনকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনজনের চোখের আঘাতই গুরুতর। হাসপাতালে চোখের চিকিৎসক না থাকায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর