হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে মামলা, দুই চিকিৎসাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ PM

হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে মামলা, দুই চিকিৎসাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/০৯/২০২৬ ০৫:৪২:৫২ PM

হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে মামলা, দুই চিকিৎসাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ


হবিগঞ্জ শহরের চাঁদের হাসি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর ঘটনায় দুই চিকিৎসাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁর শরীরে জোরপূর্বক ইনজেকশন পুশ করে হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন গোলাম মোস্তফা রফিকের ছেলে ব্যারিস্টার মোঃ জাকারিয়া। মামলায় চাঁদের হাসি হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ সোলাইমান মিয়া ও মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট আল আমিন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ আগস্ট দুপুরে শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কারণে গোলাম মোস্তফা রফিক হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা কেবিনে চিকিৎসা দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ০১৭১৬-২৬০৯৬৯ থেকে চাঁদের হাসি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সোলায়মান মিয়াকে ০১৭১২-৭২৬৫৪৬ ও ০১৮২২-৮৮৭১৫৯ নম্বরে ফোন করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ডাঃ সোলাইমান তাঁকে চেম্বারে আসতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে একটি ছোট সাদা কাগজে ওষুধের নাম লিখে চিকিৎসা দেন এবং চাঁদের হাসি হাসপাতালের মুক্তিযোদ্ধা ভবনের অবজারভেশন রুমে অপেক্ষা করতে বলেন।

এরপর গোলাম মোস্তফা রফিক ও তাঁর সঙ্গে থাকা সাক্ষীরা ১১২ নম্বর কক্ষে যান। মামলায় বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পর আল-আমিন সেখানে এসে প্রেসক্রিপশনটি নিয়ে ওষুধ আনার জন্য সাক্ষীদের বলেন। পরে নূরুল হক টিপু হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে কক্ষের একটি টেবিলে রাখেন। এ সময় গোলাম মোস্তফা রফিক চেয়ারে বসে অক্সিজেন নিচ্ছিলেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওষুধগুলো দেখে তিনি তাঁর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করতে নিষেধ করেন। এর আগে ফেনারগন ইনজেকশন দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। কিন্তু আল-আমিন তাঁর কথায় কর্ণপাত না করে পাশের কক্ষ থেকে সিরিঞ্জে ওষুধ নিয়ে আসেন।

মামলার সাক্ষী মোছাঃ তাহমিনা আক্তার আলফা ও নূরুল হক টিপু আল-আমিনকে ইনজেকশন দিতে নিষেধ করেন। নূরুল হক টিপু ফেনারগন নিয়ে আসার জন্য ৫ মিনিট সময় চান। এ সময় অপর সাক্ষী সোহেলী শারমিন জানান, ফেনারগন আনতে তিনি চাঁদের হাসি হাসপাতালের ফার্মেসিতে এবং মোঃ নূরুল আমিন সদর হাসপাতালে গেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, আল-আমিন তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, রোগীর কিছুই হবে না। পরে পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে গোলাম মোস্তফা রফিকের শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ইনজেকশন দেওয়ার ৩০/৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি চেয়ার থেকে পড়ে যান এবং মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনার পর ভুল চিকিৎসা ও কর্তব্যে অবহেলায় গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ রত্মদ্বীপ বিশ^াসকে আহবায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে আল আমিনের বিরুদ্ধে মেডিকেল ইথিক্স এবং প্রফেশনাল মিসকনডাক্টের অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবেদনের নম্বর ০৫.৪৬.৩৬০০.০০০.০০৯.১৩.০০৪৪.২৩.৩০০।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা সাধারণ অভিপ্রায়ে নিন্দনীয় নরহত্যায় জড়িত ছিলেন এবং পরিবারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও আল-আমিন হত্যার উদ্দেশ্যে অবহেলাবশত গোলাম মোস্তফা রফিককে ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন।

এদিকে চাঁদের হাসি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সোলাইমান মিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ও নিরীহ রোগীদের অবহেলার সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে নবজাতকের মৃত্যুসহ আরও অনেক মানুষ তাদের চিকিৎসাসেবায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চাঁদের হাসি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলার ঘটনায় ২নং আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল-১ আদালত, হবিগঞ্জে সি.আর. ১০৩/২০১৯ইং ও সি.আর. ৯৭৮/২০২৩ইং মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী ব্যারিস্টার মোঃ জাকারিয়া।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর