‘একটি গানও স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে’: রিজভী
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ PM

‘একটি গানও স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে’: রিজভী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫/০৯/২০২৬ ০৯:২৪:২৭ AM

‘একটি গানও স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে’: রিজভী


একটি গান বা একজন শিল্পীর সৃষ্টিশীলতার শক্তি অনেক সময় বড় রাজনৈতিক আন্দোলনকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার ভাষায়, সাংস্কৃতিক কর্মীদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো আন্দোলনই পূর্ণ সফলতা পায় না। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, সমাজ বা রাষ্ট্রে একটি গান কিংবা গানের একটি কলিও সুনামির চেয়েও বড় তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা...’ কিংবা ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি...’—এ ধরনের গান মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রভাব তৈরি করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, যে রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীবাহিনী থাকে না, সেই আন্দোলন সফল হওয়া কঠিন। বড় বড় মনীষীরাও এ বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। বৃহত্তর স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক বিপ্লব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাংস্কৃতিক কর্মীরা অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক বাহিনীকে সুসংগঠিত না করা গেলে কোনো আন্দোলনই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে না। একটি গান বা একজন শিল্পীর শক্তি কখনো কখনো কয়েকটি এটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, যা স্বৈরতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দিতে সক্ষম।

আসামের একটি গানের কারণে একজন শিল্পীকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তার মতে, কট্টরপন্থী সরকারের সময় একটি গানও ক্ষমতাসীনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হলেই কেউ মানবতাবাদী বা উদারমনা হয়ে যাবেন—এমনটি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী ছিল। হিটলারের নাৎসি বাহিনী এবং মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসনের সঙ্গেও অনেক বড় সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী যুক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, আজকে রোকেয়া প্রাচীরা শেখ হাসিনার গুণগান গাইছেন এবং বহু চক্রান্তের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। একইভাবে হুমায়ূন আহমেদের ছোট স্ত্রী কী ধরনের ভূমিকা পালন করছেন, সেটিও সবাই দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভীর বক্তব্য, প্রকৃত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মানবতাবাদী গুণাবলি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন। নজরুলের সাম্যের দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষের মর্যাদাকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার মানসিকতাই একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নজরুলের গুণাবলি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে রয়েছে, তিনিই প্রকৃত অর্থে শিল্পী। এসব বৈশিষ্ট্য না থাকলে কোনো শিল্পী ফ্যাসিস্টদের দোসরও হতে পারেন।

আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আহনাফ, মুগ্ধ ও আবু সাঈদের মহিমান্বিত আত্মদান, তাদের শরীর থেকে ঝরা রক্ত কিংবা সাদা শার্ট রক্তে লাল হয়ে যাওয়ার দৃশ্য অনেকেই দেখেননি। একই দেশের মানুষ হয়েও কেউ কেউ কীভাবে একটি ভয়ঙ্কর ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুর সভাপতিত্বে এবং জাসাসের সদস্য খালেদ এনাম মুন্নার পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, শাম্মী আক্তার এমপি ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রমুখ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর