চার লেনের স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল সড়ক নির্মাণের কাজ। কিন্তু প্রায় ৭৬ কোটি টাকার সেই প্রকল্প এখন যেন থেমে আছে ধুলোর মেঘে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের ব্যস্ত সড়কজুড়ে বালু, মাটি আর খোয়ার স্তূপ। ভারী যানবাহন ছুটলেই সড়ক থেকে উড়ে ওঠে ধুলার ঝড়। সেই ধুলো ছড়িয়ে পড়ে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে শুরু করে পথচারীর নিত্যদিনের জীবনে। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ থাকায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট থেকে বিটাক পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বালু, মাটি ও খোয়া। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এম এম বিল্ডার্স’।
২০২৫ সালের অক্টোবরে শুরু হয়েছিল প্রকল্পটির কাজ। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ মাঝপথে পৌঁছালেও ভিটি বালুর সংকটের কথা জানিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় সড়কের ধুলা যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামা পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সড়কজুড়ে তৈরি হয় ধুলার ঝড়। শান্তিগঞ্জ পয়েন্ট, উপজেলা পরিষদ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন জমছে ধুলার আস্তরণ।
শান্তিগঞ্জ বাজারের ফল বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘মাস্ক পরেও ধুলা থেকে বাঁচা যাচ্ছে না। ফলের ওপর সারাক্ষণ ধুলার আস্তরণ পড়ে থাকে, যার জন্য ক্রেতারা দোকানে আসতে চায় না। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত দোকান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।’
ধুলোর এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশাচালকেরাও। অটোরিকশাচালক নুর মিয়াও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ধুলার কারণে সামনের পথ কিছুই দেখা যায় না। যাত্রী নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। অন্তত দিনে দুই থেকে তিনবার যদি সড়কটিতে পানি ছিটানো হতো, তাহলে আমাদের এই কষ্ট কিছুটা হলেও কমত।’
কেন থেমে আছে নির্মাণকাজ জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাবিক আল হাসান বলেন, প্রকল্পের সিংহভাগ ঢালাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ভিটি বালুর সংকটের কারণে সাময়িকভাবে কাজের গতি কমেছে। বালুর সরবরাহ নিশ্চিত হলেই আবার পুরোদমে কাজ শুরু হবে।
ধুলার দাপট কমাতে একটি পানির গাড়ি সব সময় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং ধুলা নিয়ন্ত্রণে সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানোর জন্য ঠিকাদারকে আবারও কঠোরভাবে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








