মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জে ৮৭ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি বিএনপির

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ০৪:৪৪:১৭ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জে ৮৭ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি বিএনপির


প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ের সড়ক প্রকল্পে ওভার এস্টিমেট, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলামের করা অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।

লিখিত বক্তব্যে কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বিভাগের জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর ব্রিজের ১ ও ২ নম্বর এবং প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পটির মূল ঠিকাদার ছিলেন ঢাকার আওয়ামী লীগ সমর্থক বদরুল ইসলাম (ইসলাম ট্রেডার্স)। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি পালিয়ে গেলে প্রথমে সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পান আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ হোসেন। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বিভিন্ন মামলার আসামি শফিকুল ইসলামকে।

কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন আরও বলেন, প্রকল্পটিতে ব্যাপক ওভার এস্টিমেট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, যেখানে মাত্র ৪০ কোটি টাকার কাজ হওয়ার কথা, সেখানে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮৬ কোটি টাকার বেশি। একইভাবে মাটির কাজের প্রয়োজন মাত্র ৭ লাখ ঘনফুট হলেও প্রাক্কলনে দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি মাটির হিসাব দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের পাঁয়তারা করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৭ অক্টোবর স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল ওই সড়ক পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, সদ্য নির্মিত গাইডওয়াল হেলে পড়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, মাটি যথাযথভাবে কমপ্যাকশন (সংকোচন) না করেই জিও-টেক্সটাইলের ওপর ব্লক বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি) ব্যবহার করা হচ্ছে।

কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন আরও বলেন, এসব বিষয় তদন্তের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে পরের দিন আবারও সড়কটি পরিদর্শনের ঘোষণা দেন এমপি নুরুল ইসলাম। কিন্তু ঠিক ওই দিনই সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমপির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনাকে ‘সংঘবদ্ধ তথ্যসন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ৮৬ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে ওভার এস্টিমেট ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির স্বাক্ষর ক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, নাদির আহমেদ এবং আ. ত. ম. মিসবাহ প্রমুখ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর