৭ জুলাই: শাবিপ্রবির ফটকের সামনে ‘বাংলা ব্লকেড’
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৭:৪৩ AM

৭ জুলাই: শাবিপ্রবির ফটকের সামনে ‘বাংলা ব্লকেড’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭/০৭/২০২৫ ০৮:৩৭:০৬ AM

৭ জুলাই: শাবিপ্রবির ফটকের সামনে ‘বাংলা ব্লকেড’


২০২৪ সালের ৭ জুলাই, বিকেল ৩টা। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কয়েকশ’ শিক্ষার্থী। তাদের হাতে ছিল কিছু প্ল্যাকার্ড, যার লেখাগুলো স্পষ্ট— “কোটা না মেধা, মেধা মেধা”, “মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই”।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাড়ে ৩টায় এই মিছিল সমবেত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে। বৈষম্যের কোটা বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির সাথে একাত্ম হয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা গানে স্লোগানে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। 

২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট একটি রায়ে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়া হয়। তার পরদিন থেকেই দেশব্যাপী সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।

রায়ের বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষ আপীল করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরকারকে ঈদের আগে কোটা বাতিলের দাবি জানায়। কিন্তু ঈদের পরেও আদালতে এ ব্যাপারে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় জুলাইয়ের প্রথমদিন থেকেই দেশব্যাপী শুরু হয় নানা কর্মসূচি। 

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন এসকল কর্মসূচিতে। ৭ জুলাই দেশব্যাপী বাংলা ব্লকেড ঘোষণা করা হলে তাতে সাড়া দিয়ে কয়েকশত সাধারণ শিক্ষার্থী জড়ো হন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকে। 

সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও যদি কোটা থেকেই যায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছিল?”

আরেকজন বলেন,“যুদ্ধ করে যে বাংলাদেশ পেলাম, সেখানে বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। কোটা তো সাময়িক সমাধান ছিল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়।”

তারা ২০১৮ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে আলোচনা করেন যখন সারাদেশের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো একত্র হয়েছিল কোটা সংস্কারের দাবিতে। আন্দোলনের মুখে সরকার ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটাব্যবস্থা বাতিল করেছিলো।

সে আন্দোলনের রেশ স্মৃতিতে স্পষ্ট থাকার মধ্যেই হাইকোর্টের রায়ে কোটা পুনর্বহালের খবর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করে। 

সেদিন শুধু শাবিপ্রবি নয়, সেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের খবর আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে ঢাকাগামী মহাসড়ক। রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছিল বাংলা ব্লকেডের সাথে একাত্মতা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর