নগরীতে একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং—এই দুইয়ের যন্ত্রণা মিলিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে নগরবাসীর। দিনের তীব্র তাপদাহ ও রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশ জনজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সিলেটবাসী।
জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই সিলেটে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। এই অসহনীয় গরমে ঘরবন্দী থাকা যেমন কষ্টকর হয়ে উঠেছে, তেমনি বাইরে বের হলেই ক্লান্তি ও অসুস্থতার শিকার হচ্ছেন অনেকে। তার ওপর একাধিকবার লোডশেডিং হওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, দরগাহ গেইট, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, টিলাগড়, উপশহর, সোবহানীঘাট, কাজিরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে তিন থেকে পাঁচবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো বিদ্যুৎ ফিরে এলেও আধাঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার চলে যাচ্ছে। এতে ফ্রিজ, ফ্যান, এসি এমনকি পানির মোটর পর্যন্ত বন্ধ থাকায় গৃহস্থালির কাজেও বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এভাবে দিনের বেলা লোডশেডিং থাকলে ঘরে থাকা যায় না। আবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানো যায় না। গরমে যেন দম বন্ধ হয়ে আসে।
নগরীর ব্যবসায়ীরাও বলছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তাদের বেচাকেনা কমে গেছে। বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও আইটি খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সীমিতভাবে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে তারা চেষ্টা করছে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার।
সিলেটের এই গরম ও লোডশেডিং পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে প্রশ্নে সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই কথা—"আর কতকাল এমন ভোগান্তি চলবে?"
আজকের সিলেট/এপি/এসটি
আহমেদ পাবেল 








