হার্ডলাইনে পুলিশ, আন্দোলন থেকে সরে দাড়ালো ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১২:৪৮ PM

হার্ডলাইনে পুলিশ, আন্দোলন থেকে সরে দাড়ালো ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/১১/২০২৫ ১০:৪৬:৩৩ AM

হার্ডলাইনে পুলিশ, আন্দোলন থেকে সরে দাড়ালো ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা


আজ সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলসহ ১১ দফা আন্দোলনের দাবিতে শহীদ মিনার এলাকায় প্রতীকী অনশন করার কথা ছিল রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। তবে ২৪ ঘন্টার ব্যাবধানে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনারের অভিযানে ২৮ নেতাকর্মী ও রিকশা শ্রমিকরা আটক হওয়ায় আন্দোলন থেকে পিছু হাটছেন তারা। তাদের দাবি, পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এবং নেতাকর্মী শ্রমিকদের আটকের কারণে তারা প্রতীকী অনশনটি আপাদত স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।

শনিবার রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাশরুখ জলিলের স্বাক্ষরিত পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন তথ্যই উঠে আসে।

বিবৃতিতে মাশরুখ জলিল জানান, নগরীর সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিবেচনায় রোববার নির্ধারিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। মহানগরীর রিকশা শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা সিলেটবাসীকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মিথ্যা বক্তব্য, নিরপরাধ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার এবং আঞ্চলিক জাতীবাদের উস্কানির মধ্য দিয়ে দেশে বিভক্তি সৃষ্টির যে প্রচেষ্টা চলছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এসব বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

এদিকে, প্রতীকী অনশন কর্মসূচির আগে সংগঠনের নেতা ও রিকশা শ্রমিকদের আইনী সহায়তা দেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের দাবিতে সরব থাকা চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক মণীষা ওয়াহিদ।

মণীষা ওয়াহিদ বলেন, পুলিশ যেভাবে আমাদের নেতাকর্মী ও রিকশা শ্রমিক ২৮ জন ভাইদের কোন কারণ ছাড়া আটক করেছে সেটা নিন্দনীয়। আমরা আমাদের কার্যক্রম থেকে ফিরে আসিনি তবে সময়টা পরিবর্তন হবে, কারণ আগে তাদের আইনী সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। আপনারা জানেন রোববার যার কারণে আদালতে তাদের জামিন চাইতে হবে। পরবর্তীতে আমরা একটা সংবাদ সম্মেলন করতে পারি।

অন্যদিকে নিয়ম মেনে সিলেটে রিকশা চলাচলের আহ্বান জানিয়ে সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রিকশা চালাতে আমরা বাধা দিচ্ছি না, তবে নিয়ম মেনে চলতে হবে লাইসেন্স নিতে হবে। ব্যাটারি চালিত রিকশার কোনো পারমিট বা অনুমোদন নেই। তাহলে কি সিলেট এখন এমন জায়গা হয়ে গেছে, যেখানে যে কেউ ইচ্ছেমতো কাজ করবে, আর সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে? যারা এই আন্দোলনে নেমেছেন, তারা একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত।

এছাড়া আটক নেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী রিমান্ড আবেদন করবে জানিয়ে এসএমপির মূখপাত্র ও উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা অনেককে আটক করেছি ইতিমধ্যে ১২ জনকে সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ করে এসবের মধ্যে কোন সম্পৃক্ততা না থাকায় ছেড়ে দিয়েছি তবে ২৩ জনকে আগামীকাল আদালতে তুলা হবে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডও চাওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর