সিলেট চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১২:৪৮ PM

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/১১/২০২৫ ১০:১৯:৫৯ AM

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা


দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রিজের নির্বাচন নিয়ে যেনো নাটকের অবসান হচ্ছেনা। সিলেটে ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ এই সংগঠন নিয়ে বিতর্ক যেনো পিছু ছাড়ছে না। একের পর এক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে চেম্বারের নেতৃত্বকে ঘিরে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা সিলেট চেম্বার নিয়ে।

আগামী দুই বছর চেম্বারের নেতৃত্ব দিতে "সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম" এবং "সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ" বিরামহীনভাবে নিজেদের প্রার্থী ভোটের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথমবারের প্রেসিডিয়াম প্রদ্ধতির নির্বাচন রাঙ্গিয়ে তুলে নির্বাচনের আয়োজন। কিন্তু সব ফিকে হয়ে গেছে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার মাধ্য দিয়ে।

গত ১ নভেম্বর সিলেট চেম্বারের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ভোটগ্রহনের মাত্র ৪দিন আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তা স্থগিত হয়ে যায় চেম্বার অব কমার্সের ২০২৫-২৭সালের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন। বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সেই আদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক খারিজ হলেও এখনও কাটেনি নির্বাচন আয়োজনের সেই শঙ্কা। তাই ক্ষোভে ফুঁসছেন ব্যাবসায়ী নেতারা। তারা অবিলম্বে চেম্বারের নির্বাচন সম্পন্ন চান।

অপরদিকে, নির্বাচন আয়োজন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন আয়োজনে নতুন করে নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন।

আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন বলেন, বিষয়টি এখন আমাদের হাতে নেই। উচ্চ আদালতের ব্যাপার। আমরা বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের আদেশ এখনও পায়নি।বাণিজ্য মন্ত্রনালয় আমাদের কে জানাবে আমরা কি করবো।

নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি দুই প্যানেল দোয়া ও মানব বন্ধন পালন করেছে। সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের নেতারা চেম্বার অব কমার্সের কার্যালয়ের সামনে মানব বন্ধন করেন। মানব বন্ধনের মাধ্যমে তারা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।

অপরদিকে, সিলেট সম্মিলিত ব্যাবসায়ী পরিষদের নেতৃবৃন্দরাও সিলেট সম্মিলিত ব্যাবসায়ী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আদালত থেকে রায় পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোন পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছিনা।

পূর্ব ঘোষিত তফশিলে বর্তমানে নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনে কোন বাঁধা দেখছিনা। জানিনা কর্তৃপক্ষের কি ইচ্ছা রয়েছে। তারা কেন শুধু শুধু সময় ক্ষেপণ করছেন। আমরা বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে আমাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করেছি। আমরা চাচ্ছি যে চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন টা যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়।

সিলেট ব্যাবসায়ী ফোরামের পরিচালক প্রার্থী আব্দুর রহমান রিপন বলেন, আমরা সবাই চাচ্ছি চেম্বারের দ্রুত নির্বাচনটা যেন সম্পন্ন হয়। কারন নির্বাচন না হওয়ায় সবাই অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছি। বাড়তি একটি প্রেশারে থাকতে হচ্ছে আমাদেরকে। ভোটারদেরও মনোবল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা প্রশাসকের কাছে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি। তাছাড়া সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন সদস্যপদ পুনরায় যাচাই বাছাই করে পুনঃতফশিল এর মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসক সিলেট ও চেম্বার অব কমার্সের বর্তমান প্রশাসক কে নির্দেশ দেন। ফলে ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন স্থগিত করেন চেম্বারের প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন। নতুন করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও যাচাই-বাছাই করে হওয়ায় নতুন করে শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও ভোটাররা।

চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আবারও সমালোচনা ঝড় বইতে থাকে সর্বত্র। নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা পরস্পর কে অভিযোগ করতে থাকেন। এ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে। উভয় পক্ষই সংবাদ সম্মেলন করে চেম্বারের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পিছনে পরষ্পরকে প্রকাশ্যে দায়ি করেন।

এমনকি গত কয়েক দিন পূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষেও উভয় পক্ষের নেতারা বাকবিতন্ডায় জড়ান। যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।

উভয় পক্ষ থেকে নির্বাচন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রনালয় জেলা প্রশাসক এবং মন্ত্রনালয়ের নির্বাচন স্থগিত করা বিষয়ক আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হোন।

২৭ অক্টোবর সিলেট সম্মিলিত ব্যাবসায়ী পরিষদের মনোনীত সভাপতি প্রার্থী ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদের করা একটি রীট পিটিশন (নং-১৭৬০৬/২০২৫) বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের নির্বাচন স্থগিত হওয়া সংক্রান্ত আদেশটি আদালত খারিজ করেদেন। বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের আদালত ২৯ অক্টোবর আদেশ টি প্রদাণ করে।

অপরদিকে, সিলেট ব্যবাসায়ী ফোরামের পক্ষে কামরুল হামিদ মহামান্য উচ্চআদালতে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের আদেশের বিরুদ্ধে অপর একটি রীট পিটিশন (নং-১৭৬৮৩/২০২৫) দাখিল করেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের আদালত বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের নির্বাচন স্থগিত হওয়া সংক্রান্ত আদেশটি ৩০ অক্টোবর খারিজ করেদেন।

৩০ অক্টোবর উচ্চ আদালতের বিশেষ ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে আদালতের আদেশের কপি চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক সাঈদা পারভীন কে পৌছানো হয়। কিন্তু তার পরপরও পহেলা নভেম্বর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব করতে পারেননি কোন কর্তৃপক্ষ।

ফলে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন আয়োজন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি বাড়তে থাকে অপেক্ষা কাদের হাতে ওঠবে চেম্বার অব কমার্সের পরিচালনা পরিষদের আগামীর নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যে প্রশাসকসহ সকলে অপেক্ষায় আছেন চেম্বার অব কমার্সের অভিভাবক বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর