ছাতকে পুরোনো ট্রান্সফরমারের স্থানে মাটি খোঁড়া, তামার তার নিয়ে প্রশ্ন
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ PM

ছাতকে পুরোনো ট্রান্সফরমারের স্থানে মাটি খোঁড়া, তামার তার নিয়ে প্রশ্ন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯/০৯/২০২৬ ০৬:৪১:০১ PM

ছাতকে পুরোনো ট্রান্সফরমারের স্থানে মাটি খোঁড়া, তামার তার নিয়ে প্রশ্ন


ছাতক রেলওয়ের পুরোনো একটি ট্রান্সফরমারের স্থানে মাটি খুঁড়ে ভূগর্ভে থাকা মূল্যবান তামার তার কেটে বা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন রেলওয়ে কর্মীর বিরুদ্ধে। ছুটির দিন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনের বেলায় সেখানে মাটি খোঁড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, ‘আর্থিং লিক’ মেরামতের জন্য কাজটি করা হয়েছে। তামার তার কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছাতক রেলওয়ে এলাকায় আগে একটি বড় ট্রান্সফরমার ছিল। পরে সেটি সরিয়ে সেখানে তুলনামূলক ছোট একটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে ছোট ট্রান্সফরমারটিও বিকল বা নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার রেলওয়ের আমির হোসেন (মেকানিক্স), জাহাঙ্গীর আলম (সহকারী সাপ্লাইসার), রেজাউল করিম (সহকারী ফিটার) ও দেলোয়ার হোসেন (লাইনম্যান, অবসরপ্রাপ্ত) সহ কয়েকজনকে পুরোনো ট্রান্সফরমারের স্থানে মাটি খুঁড়তে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আর্থিং লিক’ মেরামতের কথা বলে সেখানে মাটি খোঁড়া হয়। পরে মাটির নিচে থাকা তামার তার কেটে বা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ওই তার কোথায় নেওয়া হয়েছে কিংবা কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, ট্রান্সফরমারটি যদি বর্তমানে অচল থাকে, তাহলে সেটির আর্থিং মেরামতের প্রয়োজন কেন হলো? একই সঙ্গে আর্থিংয়ের ত্রুটি সারাতে গিয়ে ভূগর্ভে থাকা তামার তার কেটে বা তুলে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের বিদ্যুৎ সংযোগের বিপরীতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নিয়মিত মাসিক বিল আসে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার বর্তমান কার্যকারিতা এবং সেখানে মাটি খোঁড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, মাটি খোঁড়ার সময় ঘটনাস্থলে ইলেকট্রিক ফোরম্যান উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ইলেকট্রিক ফোরম্যান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সেখানে আর্থিং লিক হয়েছিল এবং সেটি ঠিক করার কাজ করা হয়েছে। তবে মাটির নিচ থেকে তামার তার কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ছাতকবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আহসান হাবিব বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, আর্থিং মেরামতের কথা বলে মাটি খুঁড়ে তামার তার বের করা বা কেটে নেওয়া হয়ে থাকলে, এর পেছনের কারণ তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। কার নির্দেশে মাটি খোঁড়ার কাজ হয়েছে, সেখানে কী ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছিল, আর্থিং লিক শনাক্তে কোনো কারিগরি পরীক্ষা বা প্রতিবেদন করা হয়েছিল কি না এবং কাজ শেষে তামার তারের কী হয়েছে এসব বিষয় স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আরও দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি ভূগর্ভে থাকা বৈদ্যুতিক তারের বর্তমান অবস্থা, সংশ্লিষ্ট ট্রান্সফরমারের কার্যকারিতা, মাটি খোঁড়ার অনুমোদন এবং কাজের নথিপত্র যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর