কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সল ও তানভীর মাহমুদ।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা, একাডেমিক পরিবেশ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান দ্বৈত প্রশাসন ও দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূল দাবি। তারা জানান, দীর্ঘ আন্দোলন, আমরণ অনশন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কমিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা, ক্যাম্পাস পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে একটি সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সভায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সাস্ট’ হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ওই সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং কার্যকর কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এর মধ্যে সম্প্রতি কলেজের একটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের একাডেমিক ও গবেষণার পটভূমি ওই পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এসব দাবির প্রতিবাদে গত রোববার থেকে ক্যাম্পাসে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময় প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানরত শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে মানবিক দিক বিবেচনায় শিক্ষকদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তারা।
শিক্ষার্থী তানভীর মাহমুদ বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষকদের প্রশাসনিক ভবন থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন।’
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। তাদের কেউ লাইব্রেরিতে, আবার কেউ গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন।
তানভীর মাহমুদ বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে শিক্ষার্থীরা নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেও সেই তুলনায় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে সান্ধ্যকালীন প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করা একজনকে এনে বিভাগীয় প্রধান করা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









