একবার বদলির পর ৩ বছর অপেক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নতুন শর্ত
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫০ PM

একবার বদলির পর ৩ বছর অপেক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নতুন শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭/০৮/২০২৬ ১০:৫১:৫০ AM

একবার বদলির পর ৩ বছর অপেক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নতুন শর্ত


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে নতুন করে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। চাকরিতে অন্তত দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে একবার বদলি হওয়ার পর তিন বছর পার না হলে পুনরায় বদলির আবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

সিলেট বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত নোটিশে এসব শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে নোটিশটি জারি করা হয়।


নোটিশে বলা হয়েছে, চাকরির ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে বদলির জন্য বিবেচনা করা যাবে না। আর কোনো শিক্ষক একবার বদলি হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে পুনরায় বদলি করা হবে না।

বদলির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শূন্য পদকেও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যে বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শূন্য পদ রয়েছে, কেবল সেখানেই শিক্ষক বদলি করা যাবে। শূন্য পদ না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে বদলির সুযোগ থাকবে না।

শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও বদলির সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষককে বদলি করা যাবে না।

এ ছাড়া শিক্ষকের নিজের আবেদন ছাড়া তাকে বর্তমান বিদ্যালয় থেকে অন্য কোনো বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নারী শিক্ষকদের জন্যও বদলিতে বিশেষ অগ্রাধিকার রাখা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা শর্তগুলো পূরণ হলে নারী শিক্ষকরা তাদের স্থায়ী ঠিকানা অথবা স্বামীর স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

আবেদন যাচাই হবে যেভাবে

নোটিশ অনুযায়ী, অন্তঃবিভাগীয় বদলির আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করা হবে। আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কমিটির নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে আন্তঃবিভাগীয় বদলির ক্ষেত্রে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সর্বশেষ বদলি নীতিমালা অনুসারে যাচাই-বাছাই করতে হবে। পরে এসব আবেদন মহাপরিচালকের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়মে বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ, সর্বশেষ বদলির পর অতিবাহিত সময় এবং বিদ্যালয়ের শূন্য পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় থেকে জনবল কমে যাওয়া ঠেকাতেও এসব শর্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর