নেপালের ত্রিশুলিতে বন্যায় ধ্বংস ২,৫০০ ভবন
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ PM

নেপালের ত্রিশুলিতে বন্যায় ধ্বংস ২,৫০০ ভবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/০৯/২০২৬ ০৮:৪৭:৫৬ AM

নেপালের ত্রিশুলিতে বন্যায় ধ্বংস ২,৫০০ ভবন


নেপালের ত্রিশুলি উপত্যকায় গত ২৬ আগস্ট হিমবাহসৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে। এতে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি এলাকায় অন্তত ২ হাজার ৫০০ ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। প্যারিস থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

কোপার্নিকাসের জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিষেবার পর্যালোচনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত তিন এলাকার মোট স্থাপনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতির হিসাবও যুক্ত করলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরের তিমুরে, স্যাব্রুবেশি ও বিদুর শহরের কিছু অংশকে এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আওতায় রাখা হয়েছে। দুর্যোগের আগে এসব এলাকায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। উপগ্রহচিত্রের মাধ্যমে নেপালের তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহর ভরতপুরের আশপাশের এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ের কাজ চলছিল।

বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা, হিমালয়ের একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার পরই এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। হিমবাহ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার নিচে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের সীমান্তসংলগ্ন গিরং সীমান্ত চৌকি পেরিয়ে নেপালে প্রবেশ করে।

সীমান্তবর্তী তিমুরে শহর ও আশপাশের এলাকায় বন্যার স্রোতের কারণে ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে। শহরটি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত স্যাব্রুবেশিতে ধ্বংস হয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভবন। লাংটাং ট্রেকের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত এই গ্রামটি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান।

নুওয়াকোট জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র বিদুরের আশপাশের নদীতীরবর্তী এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সেখানে ১ হাজার ৮০০টির বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রতি পাঁচটি ভবনের মধ্যে প্রায় তিনটিই বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়েছে। বিদুরে উদ্ধারকারী দলের ঘাঁটিও রয়েছে।

প্রবল স্রোতের কারণে শুধু বসতবাড়িই নয়, সড়ক ও সেতুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে দুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর