জগন্নাথপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে শেষ প্রাথমিক ওষুধের মজুত
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ PM

জগন্নাথপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে শেষ প্রাথমিক ওষুধের মজুত

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/০৯/২০২৬ ১২:১৮:০৭ PM

জগন্নাথপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে শেষ প্রাথমিক ওষুধের মজুত


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার প্রকোপ বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে আসায় ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে হামের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধের মজুতও শেষ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। রোববার সকাল ৯টায় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে রোগীর চাপের এমন চিত্র দেখা যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই উপজেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। প্রতিদিন জ্বর ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের পাশাপাশি অন্যান্য বয়সের রোগীরাও হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

এর মধ্যেই দেখা দিয়েছে ওষুধের সংকট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সূত্র অনুযায়ী, হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধের বর্তমান মজুত শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা প্রেসক্রিপশন দিলেও সরকারি সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের রোগীরা।

হামে আক্রান্ত ১১ মাস বয়সী ফারহান আহমেদ তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার স্বজন ফাহমিদা বেগম বলেন, ‘আমি রোগী নিয়ে এসেছি, ওষুধ নেই। আমরা গরিব মানুষ, ওষুধ কেনার টাকা নাই।’

আরেক রোগীর স্বজন শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে হামের রোগী। নার্স বলল বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে। আমি বললাম, টাকা নাই। নার্স মৌসুমী বলল, টাকা নেই তো রোগী নিয়ে আসছেন কেন?’

হাসপাতালের নার্স সঞ্চিতা বলেন, ‘হামের রোগী বেশি, প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

তবে তাঁর সহকর্মী নার্স মৌসুমী অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়, আমি এমন কথা বলিনি। আমি বলেছি, বাইরে থেকে ওষুধ আনেন।’

ওষুধের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিম আহমেদ বলেন, ‘হামের ওষুধ নেই, যা ছিল, শেষ হয়ে গেছে। হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। ওষুধের নতুন চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ মিললেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রায় বলেন, ‘হামের রোগী বেশি। ওষুধ ছিল, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা দিয়েছি।’

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর