হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে ঝড়ে উপড়ে পড়া বিশাল আকৃতির একটি কড়ই গাছ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। রেলওয়ে চিকিৎসালয়ের সামনে পড়ে থাকা গাছটির আনুমানিক মূল্য প্রায় লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণ বা নিলামে বিক্রির কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, নিয়ম মেনে গাছটি নিলামে বিক্রি করা হলে সরকারি কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব জমা হতে পারত। কিন্তু দীর্ঘদিন খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে কাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছটিতে পচন ধরারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবল ঝড়ের সময় শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের রেলওয়ে চিকিৎসালয়ের সামনে থাকা কড়ই গাছটি উপড়ে পড়ে। এরপর সেটি আর সরানো হয়নি। সরকারি জায়গায় মূল্যবান কাঠ এভাবে পড়ে থাকায় এর মূল্য ক্রমেই কমছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রেলওয়ে কর্মচারী বলেন, রেলওয়ের জায়গায় পড়ে থাকা গাছটি দীর্ঘদিন ধরেই সবার নজরে রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাদের ভাষ্য, সরকারি সম্পদ হিসেবে গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ছিল। আর সংরক্ষণের প্রয়োজন না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গাছটি অপসারণ করা উচিত। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে কাঠের গুণগত মান নষ্ট হলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-প্রকৌশলী (পূর্ত) আব্দুর রউফ বলেন, ‘গাছটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিলামের কোনো অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনুমতি সাপেক্ষে নিয়মনীতি মেনে গাছটি সংরক্ষণ অথবা নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।’
পরিবেশপ্রেমী সুজন মিয়া বলেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছটি দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এতে সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়া ঠেকানোর পাশাপাশি নিলামের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত গাছটি অপসারণ ও নিলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা গাছটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী, সেটিও জনসম্মুখে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








