বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সবশেষ দুই আসর ঘিরে ফিক্সিংসহ নানা অভিযোগের তদন্ত করেছে বিসিবির স্বাধীন তদন্ত কমিটি ও দুর্নীতি দমন বিভাগের স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শাল। ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী অধিকতর তদন্তের পর ২০২৫ সালের বিপিএলের নিলাম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল ৯ ক্রিকেটারকে। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে দোষ প্রমাণিত হয়নি, আবার নির্দোষও ঘোষণা করা হয়নি।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখে এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবি ও ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান এবং অ্যালেক্স মার্শাল।
অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন ২০২৫ বিপিএলের দুর্দান্ত রাজশাহীর এনামুল হক, শফিউল ইসলাম, সানজামুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান; ঢাকা ক্যাপিটালসের মোসাদ্দেক হোসেন ও আলাউদ্দিন বাবু; এবং সিলেট স্ট্রাইকার্সের আরিফুল হক ও নিহাদুজ্জামান। নিলামে জায়গা না পেলেও তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন। মোসাদ্দেক সৈকত জাতীয় দলেও ডাক পেয়েছেন।
ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বলেন, ‘তারা দোষীও নয়, আবার নির্দোষও নয়।’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, তদন্তে শুধু এই ৯ ক্রিকেটারের নামই ছিল না; আরও অনেকের নাম এসেছে। তাঁদের মধ্যে বিদেশি খেলোয়াড়ও ছিলেন। স্বাধীন তদন্ত কমিটি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কিছু ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দিয়েছিল।
অ্যালেক্স মার্শাল জানান, ১২তম বিপিএলের ড্রাফটের কয়েক দিন আগে তিনি ৯০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন পেয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়সহ খেলোয়াড় নন—এমন কয়েকজন ব্যক্তির বিষয়েও নেতিবাচক তথ্য ছিল।
মার্শালের ভাষ্য, ওই তথ্যগুলো আরও যাচাই করে দেখার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিপিএলে আমন্ত্রণ না জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে তিনি তখনকার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ড্রাফটের ঠিক আগে পাওয়া নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মধ্যে দেশি ও বিদেশি কয়েকজনের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য ছিল। তাঁদের কেউ কেউ বিপিএল-১২-এর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হতে পারেন—এমন সতর্কতাও তিনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে জানিয়েছিলেন।
এরপর ওই ব্যক্তিদের কয়েকজনকে টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। তবে ঠিক কী অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ ক্রিকেটারকে নিলামের বাইরে রাখা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনে তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মার্শালের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ওই ৯ ক্রিকেটারকে গত আসরের জন্যই নিলামে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তাদের ওপর স্থায়ী কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
অর্থাৎ, তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে বিপিএলে খেলার ক্ষেত্রে ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের কোনো বাধা নেই। তবে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের বিষয়ে তাদের কাউকেই এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করা হয়নি।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
ক্রীড়া ডেস্ক 








